বেলডাঙ্গায় সাংবাদিক নিগ্রহ: আক্রান্ত জি ২৪ ঘণ্টার সোমা মাইতি; জমায়েতের পিছনে এর তত্ত্ব দিয়ে বিতর্কে মুখ্যমন্ত্রী
কলম থামানো যাবে না, সত্যের অপমৃত্যু হতে দেব না
সাংবাদিক নিগ্রহের ঘটনায় মানুষের ভাষার নিন্দা
একজন সাংবাদিকের ধর্ম হলো সত্যকে জনসমক্ষে তুলে ধরা। কিন্তু সেই সত্য যখন কারও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তখনই নেমে আসে পেশ পেশিশক্তির আস্ফালন। আজ বেলডাঙ্গায় জি ২৪ ঘণ্টা (Zee 24 Ghanta)-র মহিলা সাংবাদিক সোমা মাইতির ওপর যে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে, তা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর আক্রমণ নয়, বরং তা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর আঘাত।
‘মানুষের ভাষা’-র পক্ষ থেকে আমরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একজন মহিলা সাংবাদিককে ঘিরে ধরে শারীরিক নিগ্রহ এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার সাহস যারা দেখিয়েছে, তারা সমাজের কলঙ্ক। আমরা আক্রান্ত সাংবাদিকের পাশে আছি এবং তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। প্রশাসনকে আমাদের স্পষ্ট বার্তা— অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। সংবাদমাধ্যমের ওপর আক্রমণ মানে সত্যের ওপর আক্রমণ, যা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক, ১৬ জানুয়ারি, ২০২৬: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ চরম আকার ধারণ করল। এই অস্থির পরিস্থিতির খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে এক টেলিভিশন সাংবাদিককে নির্মমভাবে আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে। এই ঘটনায় পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা এবং এর প্রেক্ষিতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিতর্কিত ‘জুমা দিন’ মন্তব্য নিয়ে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
বেলডাঙ্গা সংঘর্ষ ও সোমা মাইতির ওপর আক্রমণ
মুর্শিদাবাদ: ১৬ জানুয়ারি মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গায় হিংসাত্মক বিক্ষোভ কভার করার সময় একটি টেলিভিশন চ্যানেলের মহিলা সাংবাদিক উন্মত্ত জনতার হাতে আক্রান্ত হয়েছেন। জি ২৪ ঘণ্টা (Zee 24 Ghanta)-র সাংবাদিক সোমা মাইতি (Soma Maity)-কে বিক্ষোভস্থল থেকে টেনে হিঁচড়ে রাস্তায় নিয়ে আসা হয় এবং নির্মমভাবে শারীরিক নিগ্রহ করা হয় বলে অভিযোগ।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, এই আক্রমণে সোমা মাইতির হাত ও পায়ে গুরুতর চোট লেগেছে। পরবর্তীকালে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা মনে করে সোমা বলেন, তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে এমন আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সম্মুখীন তিনি কখনও হননি। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, দু’জন ব্যক্তি তাঁকে চ্যাংদোলা করে তুলে নেয় এবং অন্যেরা তাঁর চুল ধরে টানে, পায়ে আঘাত করে এবং তাঁর পোশাক ধরেও টানাটানি করা হয়। এমনকি তাঁর শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ। এই হামলার সময় তাঁর মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের ওপর এই বর্বরোচিত হামলা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশেষ করে যখন এলাকায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছিল, তখন সেখানে সাংবাদিকদের জন্য পর্যাপ্ত পুলিশি সুরক্ষা কেন ছিল না, তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
৩০ বছর বয়সী পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এই অশান্তির সূত্রপাত। আলাউদ্দিন ঝাড়খণ্ডে কর্মরত ছিলেন এবং ১৬ জানুয়ারি সকালে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। দেহটি তাঁর আদি গ্রাম সুজাপুর কুমারপুরে পৌঁছাতেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তা ও রেললাইন অবরোধ করে বিচারের দাবি জানান। কিন্তু সেই প্রতিবাদ দ্রুত বিশৃঙ্খলায় রূপ নেয়।
পুলিশের ভূমিকা ও মুখ্যমন্ত্রীর বিতর্কিত মন্তব্য:
অভিযোগ উঠেছে, যখন সাংবাদিক এবং সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ হচ্ছিল, তখন পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছিল। অথচ শিক্ষক বা অন্যান্য সিভিল সোসাইটির শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে এই পুলিশকেই লাঠিচার্জ করতে দেখা যায়। এই বৈষম্যমূলক আচরণ নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
এদিকে, এই বিশৃঙ্খলা নিয়ে বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবারের এই প্রবল উত্তেজনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি ‘জুমা দিন’-এর প্রসঙ্গ টেনেছেন। মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, শুক্রবার নমাজের দিন হওয়ায় অনেক মানুষ জমায়েত হয়েছিলেন এবং তার সাথে সাধারণ মানুষের ‘আবেগ’ ও ‘অনুভূতি’ জড়িয়ে ছিল। তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। সমালোচকদের মতে:
১. একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে হিংসার ঘটনায় ধর্মীয় প্রেক্ষাপট টেনে আনা বিভাজন তৈরি করতে পারে।
২. শ্রমিকের মৃত্যু এবং বিচার পাওয়ার প্রকৃত দাবি থেকে নজর ঘোরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
৩. এই মন্তব্য আসলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করতে প্রশাসনের ব্যর্থতাকে আড়াল করার একটি রাজনৈতিক হাতিয়ার।
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক আপডেট ও সম্পাদকীয় মন্তব্য
আমরা ‘মানুষের ভাষা’ পরিবার আমাদের সহকর্মী সাংবাদিক সোমা মাইতির ওপর এই অমানবিক আক্রমণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পুলিশের নাকের ডগায় একজন নারী সাংবাদিককে এভাবে লাঞ্ছিত হতে হওয়া প্রশাসনের নৈতিক পরাজয়। মুখ্যমন্ত্রী যখন এই ভিড়কে ‘জুমা দিন’-এর সাথে যুক্ত করেন, তখন তিনি পরোক্ষভাবে অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছেন কি না, সেই প্রশ্নও এড়িয়ে যাওয়া যায় না।
বর্তমান পরিস্থিতি:
আহত সাংবাদিক: সোমা মাইতি বর্তমানে চিকিৎসাধীন এবং মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত।
গ্রেফতারি: পুলিশ ভিডিও ফুটেজ দেখে কয়েকজনকে শনাক্ত করেছে, তবে মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা।
নিষেধাজ্ঞা: বেলডাঙ্গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে এবং শান্তি বজায় রাখতে রুট মার্চ করছে আধাসামরিক বাহিনী।
ট্যাগ (Tags):
#BeldangaViolence #JusticeForSomaMaity #Zee24Ghanta #MousumiMukherjee #JournalistAttacked #MamataBanerjee #JummaDayComment #MurshidabadUnrest #PressFreedomBengal #BreakingNewsBengal #ManusherBhashaReport #Zee24GhantaAttack #DemocraticRights
0 মন্তব্যসমূহ