১৮ বছর পর সিঙ্গুরে ‘মোদী-ম্যাজিক’! টাটাদের ফিরিয়ে ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) হাবের ঘোষণা? ১৮ জানুয়ারির সভায় নজর বাংলার
নিজস্ব প্রতিবেদন: ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরের জনসভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির এক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ দিতে চলেছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। টাটাদের কারখানা বিদায়ের ১৮ বছর পূর্তিতে ১৮ তারিখেই মোদীর এই সভা স্রেফ একটি কাকতালীয় ঘটনা নয়, বরং এক গভীর সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক বার্তা। সূত্রের খবর, এই সভা থেকে সিঙ্গুরকে ভারতের পরবর্তী ‘ইলেকট্রিক ভেহিকল (EV) হাব’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
সংক্ষেপ (Summary): ১৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে। সূত্রের খবর, এই ঐতিহাসিক মঞ্চ থেকে সিঙ্গুরকে দেশের অন্যতম ‘EV হাব’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারেন তিনি। বিজেপি ক্ষমতায় এলে টাটাদের সিঙ্গুরে ফিরিয়ে আনা এবং নতুন প্রজন্মের ইলেকট্রিক গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ার জোরালো প্রতিশ্রুতি দিতে পারেন প্রধানমন্ত্রী।
১৮ বছর পর ‘বাপ-ঠাকুরদাদার ভুল’ সংশোধনের ডাক
১৮ বছর আগে সিঙ্গুরের যে জমি থেকে শিল্প বিদায় নিয়েছিল, সেই জমিকেই এখন উন্নয়নের সোপান করতে চাইছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৮ তারিখের সভায় মোদী সরাসরি বার্তা দেবেন যে, তৃণমূলের আন্দোলনের কারণে বাংলা যে কর্মসংস্থানের সুযোগ হারিয়েছিল, বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে তা ফিরিয়ে দেবে। ‘শিল্প বনাম কৃষি’র যে বিতর্ক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শুরু করেছিলেন, মোদী তাকে ‘আধুনিক শিল্প ও সমৃদ্ধ কৃষক’ এই মডেলে বদলে দিতে চান।
কেন সিঙ্গুর হতে পারে ‘EV হাব’?
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে এবং ভারতে ইলেকট্রিক গাড়ির (Electric Vehicle) চাহিদা তুঙ্গে। টাটা মোটরস (Tata Motors) বর্তমানে ভারতের ইভি বাজারের অবিসংবাদিত নেতা।
টাটাদের ইভি সাম্রাজ্য: টাটা মোটরস ইতিমধ্যেই ২০২৬ সালের মধ্যে একাধিক নতুন ইভি মডেল (যেমন Sierra.ev, Avinya) বাজারে আনার পরিকল্পনা করেছে।
1 কৌশলগত সুবিধা: সিঙ্গুরের ভৌগোলিক অবস্থান, জাতীয় সড়কের সান্নিধ্য এবং বন্দর থেকে দূরত্ব—সব মিলিয়ে এটি একটি অটো-হাব বা ইভি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের জন্য আদর্শ।
বিজেপির প্রতিশ্রুতি: সূত্রের দাবি, মোদী ঘোষণা করতে পারেন যে বিজেপি ক্ষমতায় এলে টাটাদের সাথে নতুন করে আলোচনা হবে এবং ন্যানো নয়, বরং সিঙ্গুরের মাটিতে তৈরি হবে বিশ্বের অত্যাধুনিক ইলেকট্রিক গাড়ি।
টাটাদের ফেরানোর আবেগ ও ২০২৬-এর ভোট
শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপির নেতারা বারবারই অভিযোগ তুলেছেন যে সিঙ্গুর থেকে টাটাদের তাড়ানো বাংলার ইতিহাসের সবথেকে বড় ভুল। রতন টাটার প্রয়াণের পর এই আবেগ আরও বেড়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্ভবত এই আবেগকে কাজে লাগিয়ে সিঙ্গুরবাসীকে বোঝাবেন যে, বিজেপি মানেই ‘বিকাশ’। তিনি বলতে পারেন, "যদি বিজেপি বাংলায় আসে, তবে টাটারাও সিঙ্গুরে ফিরবে।" এটি আদতে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার শিক্ষিত বেকারদের জন্য সবথেকে বড় নির্বাচনী টোপ।
১৭ ও ১৮ জানুয়ারির মেগা কর্মসূচী
১৭ জানুয়ারি মালদা থেকে বন্দে ভারত স্লিপার উদ্বোধনের পর ১৮ জানুয়ারি মোদী যখন সিঙ্গুরে নামবেন, তখন গোটা দেশের নজর থাকবে তাঁর ভাষণের দিকে। একদিকে হুগলি-পুরুলিয়া লোকালের মতো রেলের উন্নয়ন, অন্যদিকে ইভি হাবের মতো দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথা শুনিয়ে সিঙ্গুর তথা পশ্চিমবঙ্গকে নতুন স্বপ্ন দেখাতে চান প্রধানমন্ত্রী।
কেন এই খবরটি গুরুত্বপূর্ণ? (Why this matters?)
শিল্পায়ন: সিঙ্গুরে শিল্প ফিরলে তা রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দেবে।
কর্মসংস্থান: ইভি হাবে কয়েক হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ চাকরির সুযোগ তৈরি হবে।
রাজনৈতিক ভারসাম্য: সিঙ্গুর-নন্দীগ্রামের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি মমতার শক্তিশালী দুর্গে ফাটল ধরাতে চাইছে।
ট্যাগ (Tags):
#ModiInSingur #SingurEVHub #TataMotors #ReturnOfTata #WestBengalIndustrialization #EVIndia2026 #NarendraModi #BJPBengal #SingurRally18Jan #SuvenduAdhikari
0 মন্তব্যসমূহ