Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

হিন্দুদের নরক বাংলাদেশ - ২৪ ঘন্টায় ২ জন , ১৮ দিনে ৬ জন হিন্দুর নৃশংস হত্যা , বিধবাকে গণধর্ষণ

হিন্দুদের নরক বাংলাদেশ - ২৪ ঘন্টায় ২ জন , ১৮ দিনে ৬ জন হিন্দুর নৃশংস হত্যা , বিধবাকে গণধর্ষণ 


বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের ওপর সাম্প্রতিক বর্বরোচিত হামলা ও অরাজকতার ঘটনাগুলো আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। গত ১৮ দিনে ওপার বাংলায় অন্তত ৬ জন হিন্দু নাগরিক হত্যার শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে শেষ ২৪ ঘণ্টায় দুই ব্যবসায়ীর নৃশংস হত্যাকাণ্ড জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে। এর পাশাপাশি ঝিনাইদহে এক হিন্দু বিধবাকে গণধর্ষণ ও অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা মানবাধিকারের চরম অবমাননা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নরসিংদী ও যশোরে ২৪ ঘণ্টায় দুই হত্যাকাণ্ড

৫ জানুয়ারি সোমবার রাতে বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার পলাশ থানা এলাকায় শরৎমণি চক্রবর্তী (৪০) নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করে অজ্ঞাতপরিচয় একদল দুষ্কৃতী। চরসিন্দুর বাজারে নিজের দোকানে থাকাকালীন তাঁর ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম শরতের মৃত্যু হয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে। উল্লেখ্য, গত ১৯ ডিসেম্বর এক ফেসবুক পোস্টে শরৎ লিখেছিলেন যে, তাঁর জন্মভূমি এখন ‘মৃত্যু উপত্যকায়’ পরিণত হয়েছে।

একই দিনে যশোরের মণিরামপুর এলাকায় রানা প্রতাপ বৈরাগী (৪৫) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে খুন করা হয়। রানা প্রতাপ স্থানীয় একটি বরফ কলের মালিক ছিলেন এবং একটি আঞ্চলিক সংবাদপত্রের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন। মোটরসাইকেলে আসা তিন দুষ্কৃতী তাঁকে ডেকে নিয়ে গিয়ে মাথায় গুলি করে এবং তাঁর গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায়। এই জোড়া হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে হিন্দুদের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফের প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে।


ঝিনাইদহে হিন্দু বিধবার ওপর চরম লাঞ্ছনা

ভয়াল এই পরিস্থিতির মাঝেই ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায় এক ৪০ বছর বয়সী হিন্দু বিধবার ওপর পাশবিক অত্যাচারের খবর পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩১ ডিসেম্বর রাতে দুই ব্যক্তি (শাহীন ও হাসান) ওই মহিলার বাড়িতে ঢুকে তাঁকে গণধর্ষণ করে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের পর তাঁকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা হয় এবং তাঁর মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়। দুষ্কৃতীরা এই গোটা ঘটনার ভিডিও রেকর্ড করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয় বলেও অভিযোগ। পুলিশ এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে, তবে এই ধরণের নারকীয় ঘটনা সংখ্যালঘু নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার চেহারাটিই উন্মোচিত করেছে।

১৮ দিনে ৬ মৃত্যু: দীর্ঘ হচ্ছে লাশের মিছিল

গত ১৮ দিনের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর টার্গেটেড হামলা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

  • খোকন চন্দ্র দাস: ৩ জানুয়ারি শরীয়তপুরে তাঁকে কুপিয়ে ও পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে মারা হয়।

  • অমৃত মন্ডল: ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়ীতে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

  • দীপুচন্দ্র দাস: ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে গণপিটুনির পর তাঁর মৃতদেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

  • বজেন্দ্র বিশ্বাস: ময়মনসিংহে নিজের কর্মস্থলেই গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান তিনি।

আন্তর্জাতিক উদ্বেগ ও ভারতের প্রতিক্রিয়া

বাংলাদেশের এই ‘অবিরাম অস্থিরতা’ নিয়ে ভারত সরকার বারবার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের দাবি অনুযায়ী, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জমানায় হিন্দুদের ওপর প্রায় ২,৯০০-এর বেশি নিগ্রহের ঘটনা ঘটেছে। সংখ্যালঘু সংগঠন ‘বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ’ নিয়মিতভাবে এই ধরণের অপরাধের প্রতিবাদ জানালেও পরিস্থিতির কোনো বিশেষ উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

যদিও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু গ্রেফতারি চালিয়েছে এবং অপরাধমূলক ঘটনার দায় সাম্প্রদায়িক নয় বরং রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছে, তবে হিন্দু সম্প্রদায়ের দাবি—তাঁরা স্রেফ ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই বারবার আক্রান্ত হচ্ছেন। এই চরম অরাজকতা ও ‘জিজিয়া’ করের মতো জোরপূর্বক টাকা আদায়ের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code