বাংলাদেশে অরাজকতার বলি আরও এক সংখ্যালঘু - নরসিংদীতে ব্যবসায়ী শরৎ চক্রবর্তীকে কুপিয়ে খুন, বিধবাকে ধর্ষণ
ওপার বাংলায় অরাজকতা যেন থামছেই না। গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সংখ্যালঘু এবং মুক্তমনা মানুষের ওপর যে ধারাবাহিক আক্রমণ শুরু হয়েছে, সোমবার রাতে নরসিংদীর ঘটনা তাতে আরও এক কালো অধ্যায় যোগ করল।
নিজস্ব প্রতিবেদন : বাংলাদেশের মাটিতে শান্তিকামী মানুষের নিরাপত্তা এখন তলানিতে। ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাসকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার ক্ষত শুকনোর আগেই এবার নরসিংদীতে নৃশংসভাবে খুন করা হলো শরৎমণি চক্রবর্তী নামে এক মুদি ব্যবসায়ীকে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাতে নরসিংদীর পলাশ থানা এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে পরপর দুই সংখ্যালঘু যুবকের হত্যার ঘটনায় ওপার বাংলায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।
সোমবার রাতের সেই হাড়হিম করা আক্রমণ
নরসিংদীর চরসিন্দুর বাজার এলাকায় শরৎমণির একটি মুদি দোকান ছিল। সোমবার রাত ৯টা নাগাদ দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। ঠিক সেই সময় একদল মুখঢাকা দুষ্কৃতী ধারালো অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, দুষ্কৃতীরা পিছন থেকে এসে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে শরৎকে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি চিৎকার করলেও জনবহুল বাজার এলাকায় কেউ এগিয়ে আসার সাহস পাননি। দুষ্কৃতীরা কাজ সেরে চম্পট দেওয়ার পর স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন।
কেন এই টার্গেটেড কিলিং?
ময়মনসিংহের দীপুচন্দ্র দাসের ঘটনা থেকে শুরু করে নরসিংদীর শরৎমণি—প্রতিটি ক্ষেত্রেই আক্রমণের ধরন অনেকটা এক। হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণেই কি এঁদের টার্গেট করা হচ্ছে? এই প্রশ্ন এখন জোরালো হচ্ছে আন্তর্জাতিক মহলে। দীপুচন্দ্র দাসকে পিটিয়ে মারার পর তাঁর শরীরে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। শরীয়তপুরে খোকন দাস নামে আরও এক যুবককে একই কায়দায় কুপিয়ে পুড়িয়ে মারা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং সংখ্যালঘু সমাজকে দেশছাড়া করার এক সুপরিকল্পিত চক্রান্তের অংশ।
৩. সাংবাদিক হত্যা থেকে গণধর্ষণ: অরাজকতার স্বর্গরাজ্য বাংলাদেশ
শুধুমাত্র সংখ্যালঘু হত্যা নয়, গত ২৪ ঘণ্টায় বাংলাদেশে আইনের শাসনের চূড়ান্ত অবক্ষয় পরিলক্ষিত হয়েছে।
যশোর: এক সাংবাদিককে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে এবং গলা কেটে খুন করা হয়েছে।
ঝিনাইদহ: এক বিধবা মহিলাকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। শুধু তাই নয়, নির্যাতনের চূড়ান্ত সীমায় পৌঁছে ওই মহিলাকে গাছে বেঁধে তাঁর চুল কেটে দেওয়া হয়।
News coming in from #Jhenaidah district of #Bangladesh.
— Hindu Voice (@HinduVoice_in) January 5, 2026
Islamists abducted and gang-raped a Hindu widow in Jhenaidah district.
Islamists also tortured her and cut her hair.
This is the horrific condition of the Hindu minorities of Bangladesh. pic.twitter.com/kAkwj1Plf6
এই প্রতিটি ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। ৫ আগস্টের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার শান্তি বজায় রাখার আশ্বাস দিলেও বাস্তবে দুষ্কৃতীরা মুক্তাঞ্চলে বিচরণ করছে।
ওপার বাংলার কান্না আর এপার বাংলার নীরবতা
নরসিংদীর এই খুনের ঘটনার পর স্থানীয় হিন্দু পরিবারগুলো চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই অরাজকতার বিরুদ্ধে ধিক্কার উঠলেও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলির নীরবতা অনেককেই অবাক করছে। পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে জানিয়েছেন যে, বাংলাদেশের এই পরিস্থিতি হিন্দু গণহত্যা বা ‘জেনোসাইড’-এর শামিল।
শরৎমণি চক্রবর্তীর নিথর দেহ আজ বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলছে। দোকানে বসে সৎ পথে রোজগার করা একজন সাধারণ মানুষের কি এই পরিণতি প্রাপ্য ছিল? ময়মনসিংহের আগুন যখন নরসিংদী পর্যন্ত পৌঁছেছে, তখন এর শেষ কোথায়, তা কেউ জানে না। ওপার বাংলায় একের পর এক মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘতর হচ্ছে, আর পৃথিবী দেখছে একবিংশ শতাব্দীর এক চরম মানবিক বিপর্যয়।
শরৎমণি চক্রবর্তী খুন নরসিংদী, Bangladesh Minority Attack 2026, দীপুচন্দ্র দাস হত্যা ময়মনসিংহ, বাংলাদেশ অরাজকতা সংবাদ।

0 মন্তব্যসমূহ