Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

SIR- মতুয়াদের নাগরিকত্ব ও সুরক্ষা দিতে মোদীজিই শেষ কথা; তৃণমূলের মতুয়া বিরোধী চেহারা ফাঁস করলেন : শুভেন্দু

তৃণমূলের 'মতুয়া বিরোধী' চেহারা ফাঁস করলেন শুভেন্দু 

বাংলাদেশের হিন্দু শরণার্থীদের ওপর পুলিশের অত্যাচার রুখতে মোদীজির রক্ষাকবচ, মমতা সরকারের মুখোশ খুললেন শুভেন্দু


Image- Organiser

ভারতবর্ষের এবং বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) এবং ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে যে তীব্র বাদানুবাদ শুরু হয়েছে, তা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সাম্প্রতিক সাংবাদিক বৈঠক বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মতুয়া সমাজ এবং হিন্দু শরণার্থীদের নাগরিকত্বের প্রশ্নে তিনি রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতা ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন।

মানুষের ভাষা,  নিউজ ডেস্ক :


মতুয়া সমাজ ও ঠাকুরবাড়ির রাজনীতিকরণ

শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘ বক্তব্যের মূল নির্যাস হলো— মতুয়া সম্প্রদায় বা আগত সনাতনীদের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার স্রেফ ‘ভোট ব্যাংক’ হিসেবে ব্যবহার করছে। তাঁর দাবি, ২০১৯ সাল থেকে ঠাকুরবাড়ির অন্দরে রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করে এই সংঘবদ্ধ সম্প্রদায়কে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে। ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি বলেন, ১৯০৭ সালে শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ও শ্রী শ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের নেতৃত্বে যে মতুয়া দর্শনের সৃষ্টি হয়েছিল এবং ১৯৪৫ সাল থেকে পিআর ঠাকুরের নেতৃত্বে নাগরিকত্বের যে দাবি উঠেছিল, তা দীর্ঘ কয়েক দশকেও কোনো সরকার মেটায়নি।

শুভেন্দুর মতে, ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ২০২৪ সালের ৬ মার্চ সিএএ রুল জারির মাধ্যমে তিনি সেই কথা রেখেছেন। বর্তমানে শুনানি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান শরণার্থীরা নাগরিকত্ব পেতে শুরু করেছেন। পশ্চিমবঙ্গেও ইতিমধ্যেই ১০০০-এর বেশি শংসাপত্র বিলি হয়েছে এবং আরও বহু আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির পথে।

সিএএ বনাম এনআরসি: বিভ্রান্তির অভিযোগ

বিরোধী দলনেতার অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সচেতনভাবে সিএএ-কে এনআরসি (NRC) হিসেবে প্রচার করে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করছেন। ২০১৯-এর সিথি মোড় থেকে শ্যামবাজারের মিছিল এবং পরবর্তী সময়ে মালদা ও মুর্শিদাবাদে ট্রেন পোড়ানো বা রেললাইন উপড়ানোর মতো ঘটনাগুলি এই ‘ভুল বুঝানো’র ফলশ্রুতি বলেই তিনি মনে করেন। তিনি তথ্য দিয়ে দাবি করেন, ২০২১-এর নির্বাচনে ৯৫ শতাংশের বেশি মুসলিম ভোট পকেটে পুরতে এনআরসি-র জুজু দেখানো হয়েছিল। অথচ সিএএ কার্যকর হওয়ার পর প্রমাণিত হয়েছে যে, এটি নাগরিকত্ব দেওয়ার আইন, কেড়ে নেওয়ার নয় এবং এর সাথে ডিটেনশন ক্যাম্পের কোনো যোগ নেই।

এসআইআর এবং ভোটার তালিকায় ‘জালিয়াতি’

শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল নির্বাচন কমিশনের ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া। মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে, কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই এই কাজ শুরু হয়েছে। এর জবাবে শুভেন্দু পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন যে, কমিশন অনেক আগেই ১০০০-এর বেশি বিএলও (BLO)-কে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, নবান্ন আইপ্যাক-কে (I-PAC) কাজে লাগিয়ে মৃত ভোটার, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং জালিয়াতি করা নথির মাধ্যমে ভোটার তালিকা ভারী করতে চাইছে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ৬০-৬২ বছরের বৃদ্ধকে কেন এখন  বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হচ্ছে? ডোমিসাইল সার্টিফিকেট কেন ১০ বছর বসবাসের প্রমাণ ছাড়াই ইস্যু করা হচ্ছে? তাঁর দাবি, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ‘দুর্নীতিগ্রস্ত’ জেলা শাসককে কলকাতা পুরসভার কমিশনার বানিয়ে বরো-ভিত্তিক ভুয়া শংসাপত্র দেওয়ার যে চেষ্টা চলছে, নির্বাচন কমিশনের আধুনিক এআই (AI) স্ক্যানার তা ধরে ফেলছে বলেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন ভয় পাচ্ছেন।

বাংলাদেশের পরিস্থিতি এবং হিন্দু শরণার্থীদের নিরাপত্তা

২০২৪-এর ৫ আগস্ট বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ওপার বাংলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর যে অত্যাচার শুরু হয়েছে, তা নিয়েও শুভেন্দু রাজ্য সরকারকে বিঁধেছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ৮৫ বছরের বৃদ্ধা ও তাঁর কন্যা এক কাপড়ে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে এসেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন এবং রায়গঞ্জ জেলে বন্দি রয়েছেন। এই ‘অমানবিক’ পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে— ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ পর্যন্ত যে সমস্ত হিন্দু শরণার্থী প্রাণ বাঁচাতে ভারতে আসবেন, তাঁদের কোনো পুলিশ হয়রানি বা ‘পুশব্যাক’ করতে পারবে না।

প্রশাসনিক রদবদল ও কমিশনের প্রতি আস্থা

রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো নিয়েও শুভেন্দু সরব হয়েছেন। নন্দিনী চক্রবর্তীকে চিফ সেক্রেটারি (CS) এবং জগদীশ মিনাকে হোম সেক্রেটারি (HS) করা নিয়ে তিনি সিনিয়র আইএএস ও আইপিএস আধিকারিকদের মধ্যে অসন্তোষের কথা উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, জুনিয়র আধিকারিকদের ওপরে বসিয়ে পুলিশি ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টা হচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদী যে, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী ভোটার তালিকা থেকে জেনুইন নাম বাদ যাওয়ার ভয় নেই এবং কমিশন একটি স্বচ্ছ তালিকা উপহার দেবে।

তুলনামূলক চিত্র: মোদী বনাম মমতা

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মানসিকতার পার্থক্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একদিকে প্রধানমন্ত্রী মোদী বাংলাদেশের ওড়াকান্দিতে গিয়ে ঠাকুরবাড়িতে প্রণাম নিবেদন করে এসেছেন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গাজলে দাঁড়িয়ে হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের নাম ‘বিকৃত’ করে উচ্চারণ করেছেন। মহুয়া মৈত্র বা কৃষ্ণ কল্যাণীর মতো তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধেও তিনি মতুয়া ও নমশূদ্র সম্প্রদায়কে অপমান করার অভিযোগ তোলেন।

সবশেষে শুভেন্দুর দাবি, ২০২৬-এর আগে ভোটার তালিকা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘নাটক’ আসলে তাঁর রাজনৈতিক পায়ের তলার মাটি সরে যাওয়ার প্রমাণ। তিনি মনে করিয়ে দেন, সুপ্রিম কোর্ট পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে যে এসআইআর একটি কন্টিনিউয়াস প্রসেস এবং এতে হস্তক্ষেপ করা হবে না। ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিতব্য ভোটার তালিকা ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতির উত্তাপ চরমে।

শুভেন্দু অধিকারীর এই দীর্ঘ সাংবাদিক সম্মেলন মূলত মতুয়া ভোট ব্যাংক রক্ষা এবং সিএএ-র সুফল প্রচারের একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক কৌশল। একদিকে সিএএ-র মাধ্যমে নাগরিকত্বের অধিকার সুনিশ্চিত করা, অন্যদিকে ভোটার তালিকায় জালিয়াতি রোখার দাবিতে কমিশনের পাশে দাঁড়ানো—এই দ্বিমুখী কৌশলেই ২০২৬-এর ঘুঁটি সাজাচ্ছে বিজেপি।

পরবর্তী পদক্ষেপ: ভোটার তালিকায় নাম বাদ যাওয়া বা ভুয়া ভোটারের নাম শনাক্তকরণ নিয়ে আপনি কি আপনার এলাকার নির্দিষ্ট কোনো তথ্য বা বিএলও (BLO) গাইড চান? মতামত জানান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code