Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

মহাজোটে হুমায়ুন-নওশাদ-ওয়েসি - ২৬ এ মহাসংকটে শাসক ,সংখ্যালঘু ভোট কি পুরোটাই হাতছাড়া তৃণমূলের ?

 বাংলার ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের রণদামামা বাজার অনেক আগেই কি বদলে যাচ্ছে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ? আলিমুদ্দিন আর লোক ভবনের বাইরে কি এবার নতুন কোনো ‘পাওয়ার সেন্টার’ বা ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু তৈরি হচ্ছে? এই মুহূর্তে রাজ্যের সংখ্যালঘু ও সেকুলার রাজনীতির অলিন্দে যে খবরটি সবথেকে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তা হলো—হুমায়ুন কবির, আইএসএফ (ISF) এবং আসাদউদ্দিন ওয়েসির মিম (AIMIM)-এর সম্ভাব্য মহাজোট।


২০২৬-এর আগে বাংলায় মেগা সমীকরণ: এক ছাতার তলায় হুমায়ুন-নওশাদ-ওয়েসি? তৃণমূলের গলার কাঁটা কি তবে ‘তৃতীয় ফ্রন্ট’?

মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ রাজনীতির ময়দানে চিরকালই সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্ক একটি বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচন কি আর আগের মতো ‘বাই-পোলার’ বা দ্বিমুখী হবে? সূত্র মারফত আমাদের কাছে যে খবর আসছে, তাতে পরিষ্কার যে তৃণমূল ও বিজেপির বাইরে এক শক্তিশালী ‘সেকুলার ও মাইনরিটি ফ্রন্ট’ তৈরির প্রক্রিয়া পর্দার আড়ালে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর এই জোটের কারিগর হিসেবে সামনে আসছেন ভরতপুরের বিদ্রোহী বিধায়ক হুমায়ুন কবির এবং ভাঙড়ের নওশাদ সিদ্দিকী। সাথে দোসর হিসেবে থাকতে পারে আসাদউদ্দিন ওয়েসির দল মিম।

সিট নয়, আগে চাই প্ল্যাটফর্ম: প্রাথমিক আলোচনার মূল সূত্র

এই মহাজোটের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, আপাতত সিট বা আসন ভাগাভাগি নিয়ে কোনও চূড়ান্ত কথা হয়নি। জোটের তিন প্রধান শরিকই মনে করছে, আগে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম বা মঞ্চ তৈরি করা দরকার। নওশাদ সিদ্দিকী এবং হুমায়ুন কবিরের মধ্যে যে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে, তাতে সিট নিয়ে কাড়াকাড়ি করে জোটের সম্ভাবনাকে অঙ্কুরেই বিনষ্ট করতে চাইছেন না নেতারা।

সূত্র মারফত খবর, ফেব্রুয়ারি মাসের পর আসাদউদ্দিন ওয়েসি নিজেই বাংলায় এসে এই জোট প্রক্রিয়ায় সশরীরে বৈঠকে বসতে পারেন। সিট নিয়ে এই মুহূর্তে কোনও ঘোষণা না করার প্রধান কারণ হলো ‘মান-অভিমান’ এড়িয়ে চলা। হুমায়ুন কবির ও নওশাদ সিদ্দিকী—উভয়েই জানেন যে, শুরুতে সিট নিয়ে দর কষাকষি করলে শাসকদলের পক্ষে ফাটল ধরানো সহজ হবে। তাই কৌশলী নওশাদ এখন ‘ওয়েট অ্যান্ড ওয়াচ’ নীতি নিয়েছেন।

‘ঘরপোড়া গরু’ নওশাদ: বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে তিক্ত অভিজ্ঞতা

নওশাদ সিদ্দিকী এবার কেন এত সতর্ক? এর পেছনে রয়েছে গত নির্বাচনের এক তিক্ত ইতিহাস। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নওশাদ এখন ‘ঘরপোড়া গরু’ যে সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। গত নির্বাচনে বাম ও কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করতে গিয়ে আইএসএফ-এর অবস্থা হয়েছিল অনেকটা ‘সাব-টেন্যান্ট’ বা ভাড়াটিয়ার মতো।

সূত্র মারফত আমাদের কাছে খবর, নওশাদ মনে করেন কংগ্রেস তাঁকে ঠিক পছন্দ করত না, আবার বামপন্থীদের সঙ্গেও ছিল আদর্শগত টানাপড়েন। একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য শেয়ার করেছেন আমাদের প্রতিনিধি। নওশাদ সিদ্দিকী যখন জেলে ছিলেন, তখন বামপন্থীরা তাঁর হয়ে সরব না হয়ে ব্যস্ত ছিলেন চে গুয়েভারার মেয়েকে নিয়ে। সেই সময় বাম নেতাদের প্রশ্ন করা হলে তাঁরা গম্ভীরভাবে বলেছিলেন, “এখন নওশাদকে নিয়ে কথা বলার সময় নয়, এখন চে-র মেয়ে এসেছেন, তা নিয়েই কথা বলব।” এই উদাসীনতা নওশাদ ভোলেননি। তাই এবার তিনি বাম বা কংগ্রেসের ‘দয়া’র ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব শক্তি বাড়িয়ে বার্গেনিং করতে চাইছেন।

হুমায়ুন কবিরের রণকৌশল: “আমি কি তবে গলার কাঁটা?”

হুমায়ুন কবির—যিনি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে থেকে রাজনীতি শিখেছেন, তিনি এখন মমতার গলার কাঁটা হতে প্রস্তুত। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, হুমায়ুন কবির এবার অত্যন্ত ‘ঝানু’ রাজনীতিকের মতো চাল দিচ্ছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তিনি ‘ভোট কাটুয়া’ নন, বরং তাঁর লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে এবং তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করার জন্য।

হুমায়ুন কবিরের পরিকল্পনা অত্যন্ত আক্রমণাত্মক:

  • ভবানীপুর ফ্যাক্টর: তিনি জানিয়েছেন, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে (যেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়ক) তিনি প্রার্থী দেবেন।

  • হেভিওয়েটদের টার্গেট: হুমায়ুন কবিরের দল ফিরহাদ হাকিম, বাবুল সুপ্রিয় এবং সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর বিরুদ্ধেও প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

  • জোটের দরজা খোলা: তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, বিজেপিকে যারা দূরে রাখতে চায় এবং তৃণমূলকে সরাতে চায়, সেই আইএসএফ বা বাম—সবার সাথে তিনি হাত মেলাতে রাজি।

দর কষাকষির লড়াই: হুমায়ুন বনাম নওশাদ

এই জোটে সবথেকে আকর্ষণীয় বিষয় হলো দুই নেতার রসায়ন। হুমায়ুন কবির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ট্রেনিংপ্রাপ্ত নেতা, যিনি জানেন কীভাবে রাজনীতির ময়দানে ঘুঁটি সাজাতে হয়। অন্যদিকে, নওশাদ সিদ্দিকীর রক্তে রয়েছে ফুরফুরা শরীফের জনপ্রিয়তা এবং পীরজাদাদের একনিষ্ঠ জনভিত্তি। সূত্র মারফত খবর, এবার দর কষাকষিটা খুব ‘টাইট’ হবে। নওশাদ যেমন জনপ্রিয়তাকে মূলধন করবেন, হুমায়ুন তেমন তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাকে সামনে রাখবেন।

হুমায়ুন কবির আমাদের প্রতিনিধিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে (Walk the Talk) জানিয়েছেন, “বিজেপি ১৯টি রাজ্য চালাচ্ছে, তারা তাদের মতো। আমাদের মেইন কাজ হলো তৃণমূলের অপশাসন থেকে বাংলাকে মুক্ত করা। তার জন্য যেকোনো সেকুলার ফোর্সের সাথে আমরা জোট করতে প্রস্তুত।”

গভীর বিশ্লেষণ: তৃণমূলের সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে কি তবে ধস?

যদি হুমায়ুন কবিরের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, নওশাদ সিদ্দিকীর মাস-আপিল এবং ওয়েসির মিম একসাথে একজোট হয়, তবে মুর্শিদাবাদ, মালদহ এবং দুই চব্বিশ পরগণার সংখ্যালঘু ভোটব্যাঙ্কে এক বিরাট ধস নামার সম্ভাবনা রয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এতকাল যে ‘সংখ্যালঘু সুরক্ষাকবচ’ ব্যবহার করে এসেছে, এই ‘তৃতীয় ফ্রন্ট’ তাতে বড়সড় ফাটল ধরাতে পারে।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, এই জোট প্রক্রিয়ার ওপর নবান্নের কড়া নজর রয়েছে। কারণ, সংখ্যালঘু ভোট কয়েক শতাংশ এদিক-ওদিক হওয়া মানেই অনেক আসনে তৃণমূলের জয়-পরাজয় নির্ধারিত হয়ে যাওয়া। নওশাদ এবার সিট শেয়ারিং নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করছেন না, কারণ তিনি জানেন তাঁর চাহিদা এখন তুঙ্গে।


বাংলার রাজনীতি এখন এক ক্রান্তিলগ্নে দাঁড়িয়ে। ফেব্রুয়ারির পরে আসাদউদ্দিন ওয়েসির সফর এই জোটকে নতুন মাত্রা দিতে পারে। হুমায়ুন কবির কি সত্যিই মমতার ‘গলার কাঁটা’ হতে পারবেন? নওশাদ সিদ্দিকী কি এবার ‘সাব-টেন্যান্ট’ অবস্থান থেকে বেরিয়ে কিং-মেকার হতে পারবেন? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর লুকিয়ে আছে আগামী কয়েক মাসের গোপন বৈঠকে। তবে এটুকু নিশ্চিত, ২০২৬-এর লড়াই আর কেবল নীল-সাদা বনাম গেরুয়া হবে না, সেখানে ‘সবুজ-গেরুয়া-লাল’ মৈত্রীর এক নতুন ছবিও ফুটে উঠতে পারে।

ট্যাগসমূহ (Tags):

#HumayunKabir, #NawshadSiddiqui, #AsaduddinOwaisi, #ISF, #AIMIM, #WestBengalPolitics2026, #ThirdFrontBengal, #TMCvsISF, #MinorityPolitics, #BengalElectionUpdate, #NawshadAlliance, #HumayunKabirExclusive, #ManusherBhashaReport, #SecularFront, #BengalPolls

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code