“কেন আমেরিকানরা ভারতের AI-এর খরচ জোগাবে?” বাণিজ্য যুদ্ধে ভারতকে ‘ট্যারিফের মহারাজা’ বলে তোপ নাভারোর
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক:
আমেরিকা ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপড়েন এবার নতুন মাত্রা নিল। হোয়াইট হাউসের বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো (Peter Navarro) সরাসরি প্রশ্ন তুললেন, কেন আমেরিকানরা ভারতের 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার খরচ জোগাবে? ভারত-মার্কিন সম্পর্কের এই শৈত্যের আবহে নাভারোর এই আক্রমণ দুই দেশের কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
'রিয়েল আমেরিকা’স ভয়েস' (Real America’s Voice)-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে বিস্তারিত প্রতিবেদনটি নিচে দেওয়া হলো:
ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের তিক্ততা কি তবে চরমে পৌঁছাল? হোয়াইট হাউসের প্রভাবশালী বাণিজ্য উপদেষ্টা পিটার নাভারো গত শনিবার ভারতকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিশেষ করে চ্যাট জিপিটি (ChatGPT)-র মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত যে সুবিধা পাচ্ছে, তার নেপথ্যে আমেরিকার বিদ্যুৎ ও সম্পদ খরচ হওয়া নিয়ে তিনি উষ্মা প্রকাশ করেছেন।
নিচে প্রতিবেদনের বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও পটভূমি তুলে ধরা হলো:
এআই এবং ‘ভ্যাম্পায়ার’ তত্ত্ব: নাভারোর বিস্ফোরক বয়ান
পিটার নাভারো তাঁর সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন যে, চ্যাট জিপিটি-র মতো উন্নত এআই প্রযুক্তি আমেরিকার মাটিতে আমেরিকান বিদ্যুৎ ব্যবহার করে পরিচালিত হচ্ছে। অথচ এর সুবিধা ভোগ করছে ভারত ও চিনের মতো দেশগুলি। তাঁর কথায়, “আমেরিকানরা কেন ভারতের এআই-এর বিল মেটাবে? এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা যা আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।”
এখানেই থেমে থাকেননি নাভারো। ব্রিকস (BRICS) দেশগুলিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, এই গোষ্ঠীভুক্ত কোনও দেশই আমেরিকাকে পণ্য বিক্রি না করে টিকে থাকতে পারবে না। তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য, “আমেরিকার বাজারে পণ্য রফতানি করার মাধ্যমে এই দেশগুলো অনেকটা ভ্যাম্পায়ারের মতো আমাদের রক্ত চুষে খাচ্ছে এবং অন্যায্য বাণিজ্যিক কৌশলের মাধ্যমে আমাদের সম্পদ লুটে নিচ্ছে।”
‘ট্যারিফের মহারাজা’ বনাম ভারতের জাতীয় স্বার্থ
গত বছর থেকেই ভারতকে ‘মহারাজ অফ ট্যারিফ’ (Maharajah of Tariffs) বা শুল্কের মহারাজা বলে ডেকে আসছেন নাভারো। উচ্চ আমদানি শুল্ক এবং রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর প্রবল ক্ষুব্ধ ট্রাম্প প্রশাসন। নাভারো ভারতের রাশিয়ার তেল কেনাকে ‘রক্তের টাকা’ (Blood Money) হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন, যার মধ্যে রুশ তেল কেনার অপরাধে ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পালটা নয়া দিল্লিও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনও বড় অর্থনীতির দেশ হিসেবে ভারত নিজের জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে যে কোনও পদক্ষেপ নিতে পিছপা হবে না।
ভারত-মার্কিন সম্পর্কের টানাপড়েনের কারণসমূহ
১. শুল্ক যুদ্ধ: ট্রাম্পের নতুন শুল্ক নীতি ভারতের আইটি এবং অটোমোবাইল সেক্টরে বড় প্রভাব ফেলেছে।
২. ভারত-পাক বিবাদ: গত বছর মে মাসে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব মেটানোর বিষয়ে ট্রাম্পের দাবি এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি ওয়াশিংটন ও দিল্লির মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েছে।
৩. অভিবাসন নীতি: ট্রাম্পের নয়া কঠোর অভিবাসন নীতি ভারতীয় পেশাদারদের জন্য আমেরিকায় কাজ করা কঠিন করে তুলেছে।
পিটার নাভারো কে? এক নজরে তাঁর প্রোফাইল
পিটার নাভারো কেবল একজন সরকারি আধিকারিক নন, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক কৌশলী।
পরিচিতি: তিনি কট্টর চিন-বিরোধী এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রবল সমর্থক।
তত্ত্ব: তিনি বিশ্বাস করেন যে আমেরিকার বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর একমাত্র উপায় হলো অন্যান্য দেশের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করা।
বিতর্ক: এলন মাস্কের মতো ধনকুবেরদের সাথেও তাঁর বাকযুদ্ধ লেগেই থাকে। ভারতের বাণিজ্যিক নীতিকে তিনি বরাবরই ‘অন্যায্য’ বলে মনে করেন।
উপসংহার:
নাভারোর এই মন্তব্য ২০২৬-এর শুরুতে ভারত-মার্কিন বাণিজ্যের এক কঠিন সময়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি এবং এআই-এর ক্ষেত্রে আমেরিকা যদি কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করে, তবে তা ভারতের আইটি সেক্টরের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হতে পারে।
ট্যাগ (Tags): 'Why are Americans paying for AI in India?': Trump aide Peter Navarro's fresh tirade after 'Maharaja tarif
#PeterNavarro #IndiaUSRelations #TradeWar #ArtificialIntelligence #DonaldTrump #RussiaOil #MaharajahOfTariffs #BRICS #ChatGPT #IndiaTrade #GlobalEconomy2026 #BreakingNewsIndia #ManusherBhashaReport

0 মন্তব্যসমূহ