কলকাতায় ২০০ (ED , CBI) কেন্দ্রীয় অফিসারের ‘ম্যাসিভ রেইড’-এর প্রস্তুতি?
আইপ্যাক কাণ্ডে হাইকোর্টে ধাক্কা তৃণমূলের, আজ সুপ্রিম কোর্টে ভাগ্য নির্ধারণ
নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা ও নয়াদিল্লি: আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে যে নজিরবিহীন সংঘাত শুরু হয়েছিল, তা এবার এক চূড়ান্ত পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। বুধবার কলকাতা হাইকোর্টে তৃণমূলের করা আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ার পর, আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টা নাগাদ সুপ্রিম কোর্টে শুরু হতে চলেছে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি। একদিকে যখন আইনি লড়াই দিল্লির অলিন্দে, তখন তিলোত্তমার অন্দরে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে এক চরম গুঞ্জন। সূত্রের খবর, বড়সড় কোনও অভিযানের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ভিন রাজ্য থেকে প্রায় দু’শো জনেরও বেশি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী অফিসার কলকাতায় এসে পৌঁছেছেন।
হাইকোর্টে ধাক্কা: ‘সব নথি মুখ্যমন্ত্রীর হাতে’
বুধবার বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে আইপ্যাক মামলার শুনানি চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে। তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ইডি তল্লাশির নামে তাদের আগামী নির্বাচনের গোপনীয় রণকৌশল ও তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে। কিন্তু ইডি-র পক্ষে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু আদালতকে স্পষ্ট জানান, “প্রতীক জৈনের ফ্ল্যাট বা আইপ্যাকের অফিস থেকে ইডি কোনও নথি বা ডিজিটাল প্রমাণ বাজেয়াপ্ত করতে পারেনি। যা কিছু সরানো হয়েছে, তা খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেই হয়েছে।”
ইডির এই অন-রেকর্ড বয়ানের পর তৃণমূলের আইনজীবী মানেকা গুরুস্বামী জানান, ইডি যদি স্বীকার করে যে তারা কিছু পায়নি, তবে এই মামলার আর কোনও যৌক্তিকতা থাকে না। এরপরেই হাইকোর্ট মামলাটি নিষ্পত্তি (Disposed of) করে দেয়। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি তৃণমূলের জন্য এক প্রকার কৌশলগত হার, কারণ ইডি এখন এই বয়ানকেই সুপ্রিম কোর্টে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করবে যে—মুখ্যমন্ত্রী নিজে তদন্তের তথ্য ‘ছিনিয়ে’ নিয়েছেন।
সুপ্রিম কোর্টে নজর: নজর বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চে
আজ বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পাঞ্চোলির বেঞ্চে ইডি-র মামলার শুনানি হবে। ইডি-র মূল অভিযোগ হলো, কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং রাজ্য পুলিশের উপস্থিতিতেই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ও ফোন সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রাজ্য পুলিশের ওপর আস্থা হারিয়ে ইডি এখন এই ঘটনায় সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি তুলেছে। অন্যদিকে, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করে রেখেছে যাতে তাদের বক্তব্য না শুনে কোনও একতরফা নির্দেশ না দেওয়া হয়।
শহরে কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের ভিড়: ৭২ ঘণ্টার চরম উৎকণ্ঠা
আইনি লড়াইয়ের সমান্তরালে কলকাতার রাজপথে এখন ‘ম্যাসিভ রেইড’-এর মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। সূত্রের দাবি, গত কয়েক দিনে শয়ে শয়ে তদন্ত অফিসার কলকাতায় এসেছেন। তাঁদের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি হস্টেল ও বাছাই করা হোটেলে রাখা হয়েছে। যুযুধান দুই রাজনৈতিক শিবিরের একাংশ রটিয়ে দিয়েছে যে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যে বড় কোনও ‘অ্যাকশন’ শুরু হতে পারে। বিশেষ করে কয়লা পাচার ও বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে মন্ত্রিসভার অন্তত তিন জন সদস্য এবং এক হেভিওয়েট নেতার আপ্তসহায়কের ওপর কড়া নজর রয়েছে তদন্তকারীদের।
বিজেপি শিবিরের মধ্যে এই নিয়ে উৎসাহ চোখে পড়ার মতো। দলের এক নেতার কথায়, “এবার সাম-দাম-দণ্ড-ভেদ সবই প্রয়োগ করা হবে।” অন্যদিকে, নয়াদিল্লি সূত্রে খবর, তদন্তের কাজে যেভাবে বাধা দেওয়া হয়েছে তা জাতীয় স্তরে এক বিপজ্জনক নজির তৈরি করতে পারে বলে মনে করছে কেন্দ্র। তাই বেশ কিছু আমলা ও পুলিশ কর্তার ভূমিকাও এবার আতশিকাঁচের তলায়।
উপসংহার: শান্তির পথে না কি সংঘাতের?
আইপ্যাকের ডিরেক্টর প্রতীক জৈনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শীঘ্রই দিল্লি তলব করা হতে পারে বলেও খবর রয়েছে। আজকের সুপ্রিম শুনানিই ঠিক করে দেবে বাংলার রাজনীতির পরবর্তী অভিমুখ। যদি শীর্ষ আদালত সিবিআই তদন্তের আর্জি মঞ্জুর করে, তবে তা নবান্নের জন্য বড়সড় প্রশাসনিক সংকট ডেকে আনবে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আইনি ও প্রশাসনিক সংঘাত বঙ্গ রাজনীতিকে কোন আগ্নেয়গিরির মুখে দাঁড় করায়, সেটাই এখন দেখার।
#SupremeCourt #HighCourt #EDRaid #IPAC #MamataBanerjee #AbhishekBanerjee #WestBengalPolitics #BengalElection2026 #CBIInvestigation #BreakingNewsBengal #KolkataUpdate #Lawsuit2026 #AdSenseFriendly #DailyHuntReport #AdityaRajKaul #ManusherBhasha


0 মন্তব্যসমূহ