হিন্দমোটর কারখানায় নাবালিকা ধর্ষণ: গ্রেপ্তার ‘নির্যাতিতার’ বন্ধুও; শাসক-ঘনিষ্ঠ যুবনেতার কীর্তিতে উত্তাল হুগলি
Image-BBCহুগলির উত্তরপাড়া এবং সংলগ্ন হিন্দমোটর এলাকা এখন এক নাবালিকা ধর্ষণের নৃশংস ঘটনায় উত্তাল। গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি ২০২৬) সন্ধ্যায় বন্ধ হিন্দমোটর কারখানার পরিত্যক্ত এলাকায় ১৬ বছরের এক নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে এক যুবকের বিরুদ্ধে, যার শাসকদল তৃণমূলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগসূত্র রয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের। আজ শনিবার (১০ জানুয়ারি) এই মামলার তদন্তে আরও একটি বড় অগ্রগতি হয়েছে।
মানুষের ভাষা, হুগলি: বন্ধ হিন্দমোটর কারখানার অন্ধকার আর পরিত্যক্ত চত্বর যে অপরাধীদের স্বর্গরাজ্যে পরিণত হয়েছে, তার প্রমাণ দিল গত বৃহস্পতিবারের ঘটনা। এক ১৬ বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। আজ শনিবার সকালে পুলিশ এই ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে— যে আসলে ওই নাবালিকার বন্ধু এবং ঘটনার সময় তার সঙ্গেই কারখানায় ছিল। পকসো (POCSO) আইনে মামলা রুজু করে আজই ধৃতদের শ্রীরামপুর আদালতে তোলা হচ্ছে।
ঘটনার নেপথ্যে: ‘যুবনেতা’র দাদাগিরি
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ওই নাবালিকা তার এক বন্ধুর সঙ্গে বন্ধ হয়ে যাওয়া হিন্দমোটর কারখানার ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। অভিযোগ, সেখানে দুই সঙ্গীকে নিয়ে আচমকা উপস্থিত হয় মূল অভিযুক্ত যুবক। সে নিজেকে ‘সিভিক ভলান্টিয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেয় এবং ওই দুই অপ্রাপ্তবয়স্ককে ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করতে শুরু করে। এরপর নাবালিকার বন্ধুকে ভয় দেখিয়ে সরিয়ে দিয়ে সে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। বাড়ি ফিরে নির্যাতিতা সমস্ত ঘটনা জানালে উত্তরপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।
তৃণমূল যোগ ও রাজনৈতিক চাপানউতর
ধৃত যুবকের পরিচয় সামনে আসতেই রাজনৈতিক পারদ চড়তে শুরু করেছে। ধৃত যুবক উত্তরপাড়া ও হুগলির একাধিক প্রথম সারির তৃণমূল নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে দাবি করেছে বিজেপি ও বামেরা। সামাজিক মাধ্যমে ওই যুবকের সঙ্গে তৃণমূল নেতাদের একাধিক ছবি ভাইরাল হয়েছে। এমনকি, একটি অডিও ক্লিপেও (যার সত্যতা যাচাই করেনি সংবাদমাধ্যম) তাকে নিজেকে ‘উত্তরপাড়া শহর যুব তৃণমূলের সহ-সভাপতি’ হিসেবে দাবি করতে শোনা গিয়েছে।
বিরোধী নেতা ইন্দ্রনীল দত্ত অভিযোগ করেছেন, “তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে নিচুতলার কর্মীরা এক অপরাধের নিরাপত্তা সংস্কৃতি গড়ে তুলেছে।”। যদিও তৃণমূলের হুগলি শ্রীরামপুর যুব সভাপতি প্রিয়াঙ্কা অধিকারী সাফ জানিয়েছেন, “কারও সঙ্গে ছবি থাকলেই সে দলের পদাধিকারী হয়ে যায় না। আইন আইনের পথে চলবে।”।
তদন্তের বর্তমান পরিস্থিতি
নির্যাতিতা নাবালিকার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়েছে এবং পুলিশ জানিয়েছে, তার বন্ধুর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে— যার ফলে তাকেও আজ গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিখোঁজ আরও দুই অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। নির্যাতিতার আইনজীবী শুভদীপ নাথ আশা প্রকাশ করেছেন যে, দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে。
এক নজরে মামলার আপডেট (Quick Look Table)
| বিষয় | বর্তমান তথ্য ও পরিস্থিতি |
| মোট গ্রেপ্তার | ২ জন (মূল অভিযুক্ত ও নির্যাতিতার বন্ধু)। |
| অভিযুক্তের পরিচয় | নিজেকে যুব তৃণমূল নেতা ও সিভিক ভলান্টিয়ার হিসেবে দাবি। |
| আইনি ধারা | পকসো (POCSO) এবং ধর্ষণের ধারা। |
| নিখোঁজ | আরও ২ জন অভিযুক্তের সন্ধান চলছে। |
| বিরোধীদের অবস্থান | উত্তরপাড়া থানার সামনে বিক্ষোভ ও দোষীদের ফাঁসির দাবি। |
আরজি কর কাণ্ডের ক্ষত এখনও শুকোয়নি, তার মধ্যেই হুগলির এই ঘটনা আবারও নারী নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। বন্ধ কারখানার পরিত্যক্ত জমি অপরাধের আখড়া হয়ে উঠেছে বলে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়রা অভিযোগ করলেও, প্রশাসনের উদাসীনতা আজ এই চরম পরিণতি ডেকে এনেছে। এখন দেখার, আদালতের বিচারে নির্যাতিতা কত দ্রুত ন্যায়বিচার পায়।
সারসংক্ষেপ (Summary):
হুগলির হিন্দমোটর কারখানায় নাবালিকা ধর্ষণের ঘটনায় আরও একজনকে গ্রেপ্তার করল উত্তরপাড়া থানার পুলিশ। মূল অভিযুক্ত শাসকদল ঘনিষ্ঠ হওয়ার অভিযোগে উত্তপ্ত স্থানীয় রাজনীতি। পকসো আইনের মামলায় তদন্ত চলছে এবং নিখোঁজ বাকি অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।
ট্যাগ (Tags):
#UttarparaRapeCase #HindmotorIncident #WestBengalPolitics #POCSO #HooghlyNews #TMCvsBJP #MinorRapeCase #JusticeForVictim

0 মন্তব্যসমূহ