আগুনের লেলিহান শিখা ও বিকট শব্দ! চম্পাহাটির হাড়ালে ফের বাজি বিস্ফোরণ; ঝলসে গেলেন ৪ জন
শনিবার সকালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটির হাড়াল এলাকায় বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা নিয়ে মানুষের মনে চরম আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বিস্ফোরণটি এতই শক্তিশালী ছিল যে স্থানীয় বাসিন্দারা পরপর তিন-চারটি বিকট শব্দ শুনতে পান। এই ঘটনায় অন্তত চার থেকে পাঁচ জন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের চিকিৎসার জন্য কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
মানুষের ভাষা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: শীতের আমেজ কাটিয়ে যখন গ্রাম জেগে উঠছে, তখনই শনিবার সকালের নিস্তব্ধতা ভেঙে পরপর কয়েকবার বিকট শব্দে কেঁপে উঠল চম্পাহাটির হাড়াল এলাকা। দত্তপুকুর বা এগরার স্মৃতি ফিরিয়ে দিয়ে ফের এক ভয়াবহ বাজি বিস্ফোরণ দেখল দক্ষিণ ২৪ পরগনা। বিস্ফোরণটি এতটাই শক্তিশালী ছিল যে সংলগ্ন এলাকার একটি বাড়ির অ্যাসবেস্টসের চাল উড়ে গিয়ে পাশের জমিতে পড়ে এবং আগুনের গ্রাসে ভস্মীভূত হয়ে যায় একটি বড় গাছ।
পরপর তিনবার বিস্ফোরণ ও ধ্বংসলীলা
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার সকালে হাড়াল এলাকায় পরপর তিন থেকে চারবার বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। বিস্ফোরণের উৎস খুঁজতে গিয়ে দেখা যায় ‘তারা মা ফায়ারওয়ার্কস’ নামক একটি বাজি কারখানায় এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। বিস্ফোরণের অভিঘাতে কারখানা সংলগ্ন একটি পাকা বাড়ি আংশিক ভেঙে পড়েছে এবং চারপাশ ধোঁয়ায় ঢেকে যায়। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চারজন কর্মীর শরীরের অধিকাংশ অংশই আগুনে ঝলসে গিয়েছে।
আহতদের অবস্থা ও উদ্ধারকার্য
বিস্ফোরণের খবর পেতেই স্থানীয় মানুষ উদ্ধারকার্যে হাত লাগান। পুলিশ ও দমকল পৌঁছানোর আগেই আহতদের বারুইপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকরা তাঁদের কলকাতার এম আর বাঙুর (M.R. Bangur) হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর। দমকলের একটি ইঞ্জিন বেশ কিছুক্ষণের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
প্রশ্নের মুখে প্রশাসনের নজরদারি
চম্পাহাটির এই এলাকাটি বাজি তৈরির জন্য পরিচিত হলেও বারবার একই ধরণের বিস্ফোরণ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর আগেও এই সর্দার পাড়া এলাকায় একাধিকবার বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, এলাকায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত কারখানার আড়ালে অনেক ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ বাজি এবং বিপজ্জনক দাহ্য পদার্থ মজুত রাখা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ‘তারা মা ফায়ারওয়ার্কস’-এর বাজি তৈরির বৈধ লাইসেন্স ছিল কি না এবং বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ কী, তা ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাজ্য সরকার বাজি ক্লাস্টার তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে গ্রামীণ এলাকায় অবৈধ বাজি তৈরি বা বিপজ্জনক মাত্রায় বিস্ফোরক মজুত রাখার প্রবণতা যে কমেনি, চম্পাহাটির এই ঘটনা তারই প্রমাণ। গত কয়েক বছরে এগরা থেকে দত্তপুকুর—একের পর এক বিস্ফোরণ হওয়ার পরেও প্রশাসন কেন কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারছে না, তা নিয়ে সরব হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।
সারসংক্ষেপ (Summary):
দক্ষিণ ২৪ পরগনার চম্পাহাটিতে একটি বাজি কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির চাল উড়ে যায় এবং আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের কলকাতায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
ট্যাগ (Tags):
#ChampahatiExplosion #FirecrackerFactoryBlast #South24Parganas #WestBengalNews #BaruipurPolice #BengalPolitics #SafetyConcerns #BreakingNewsBengal

0 মন্তব্যসমূহ