‘নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, ভবানীপুরেও হারাবো!’ পুরুলিয়ায় দাঁড়িয়ে মমতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের দামামা ইতিমধ্যেই বেজে গিয়েছে বাংলায়। আর সেই রণক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল পুরুলিয়ার পারার জনসভা থেকে শুভেন্দু ঘোষণা করেছেন যে, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করার পর, ২০২৬-এ তাঁর লক্ষ্য ভবানীপুর। নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক জয়ের স্মৃতি উসকে দিয়ে তিনি দাবি করেন, এবার পরাজয়ের মার্জিন হবে আরও দ্বিগুণ।
মানুষের ভাষা, পুরুলিয়া: ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার রাজনৈতিক উত্তাপ একলাফে কয়েক ডিগ্রি বাড়িয়ে দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার পুরুলিয়ার পারার জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর নিজের নির্বাচনী কেন্দ্র ভবানীপুরে গিয়ে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। নন্দীগ্রামে ১৯৫৬ ভোটে জয়ের রেকর্ড মনে করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু ঘোষণা করলেন, “নন্দীগ্রামে হারিয়েছি, ভবানীপুরেও হারাবো। এবার পরাজয়ের ব্যবধান হবে ডবল।”
২০২৬-এর ‘আসল’ পরিবর্তনের ডাক
এদিন পুরুলিয়ার সভায় বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভিড়ে ঠাসা ময়দান থেকে শুভেন্দু দাবি করেন, ২০১১ সালে বাংলার মানুষ তৃণমূলকে ক্ষমতায় এনেছিল এক বুক আশা নিয়ে। কিন্তু সেই পরিবর্তন ছিল আসলে ‘প্রতারণা’। তাঁর কথায়, “২০১১ সালে সত্যিকারের পরিবর্তন হয়নি। আসল বদল হবে ২০২৬ সালে, যখন নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে এ রাজ্যে বিজেপি সরকার গড়বে।” তিনি কর্মীদের অভয় দিয়ে বলেন, ২০২১ এবং ২০২৪-এর ভোট থেকে বিজেপি শিখে নিয়েছে কীভাবে ‘ভোট চুরি’ আটকাতে হয়। এবার সর্বশক্তি দিয়ে ময়দানে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
ভোটার তালিকা ও এসআইআর নিয়ে বড় ভবিষ্যদ্বাণী
বর্তমানে রাজ্যে চলা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা বিশেষ ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক পারদ তুঙ্গে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ন্যায্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রান করা হচ্ছে। গতকাল এই ইস্যুতেই এক বিস্ফোরক ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন শুভেন্দু। তিনি দাবি করেন, “১৪ ফেব্রুয়ারির পর তৃণমূল বলবে তারা আর ভোটে লড়বে না।”
কেন এমন দাবি? শুভেন্দুর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে। তাঁর দাবি, এই তালিকায় কোনো মৃত ব্যক্তি, ভুয়ো ভোটার, রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নাম থাকবে না। বিজেপির অভিযোগ, প্রায় ৫০ লক্ষ থেকে ১ কোটি ভুয়ো ভোটারের নাম তৃণমূল তাদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে তালিকায় ঢুকিয়ে রেখেছিল। স্বচ্ছ ভোটার তালিকায় ভোট হলে তৃণমূলের পরাজয় নিশ্চিত বলে দাবি করেন তিনি।
তৃণমূলের পাল্টা ও কমিশনের নীরবতা
ভোটার তালিকা থেকে এক কোটি নাম বাদ যেতে পারে—বিজেপির এই দাবির প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যেই সুর চড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, কমিশন ঠিক কতজন রোহিঙ্গা বা বাংলাদেশি পেয়েছে, তার তথ্য প্রকাশ করছে না কেন? যদিও নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো স্পষ্ট পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি। শুভেন্দু অবশ্য পাল্টায় দাবি করেছেন যে, জাতীয় দল হিসেবে বিজেপি বুথের সামনে বসবে এবং তৃণমূলের মতো ‘আঞ্চলিক দল’কে পিছনে বসিয়ে দেবে।
ভোটের এখনও কয়েকমাস বাকি থাকলেও শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘১৪ ফেব্রুয়ারির ভবিষ্যদ্বাণী’ বাংলার রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে যখন ইডি-সিবিআই তদন্তে শাসকদল ব্যতিব্যস্ত, তখন ভোটার তালিকা সংশোধনের এই ‘আইনি অস্ত্র’ দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিজ কেন্দ্রে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা সেরে ফেলেছেন বিরোধী দলনেতা। রাজপথ থেকে আদালত—২০২৬-এর লড়াই যে অত্যন্ত হাড্ডাহাড্ডি হতে চলেছে, পুরুলিয়ার সভাই তার প্রমাণ।
সারসংক্ষেপ (Summary):
পুরুলিয়ার সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভবানীপুর আসনে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি দাবি করেন, ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বচ্ছ ভোটার তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল ভোটে লড়ার সাহস পাবে না কারণ তালিকা থেকে কয়েক লক্ষ ভুয়ো ভোটারের নাম বাদ যাবে। ২০২৬-এ বাংলায় ‘আসল পরিবর্তন’ আসবে বলে কর্মীদের চাঙ্গা করেন তিনি।
ট্যাগ (Tags):
#SuvenduAdhikari #MamataBanerjee #PuruliaRally #WestBengalElection2026 #BhawaniporeChallenge #VoterListRevision #SIRBengal #BJPvsTMC #NandigramRemembrance #BengalPolitics

0 মন্তব্যসমূহ