Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

IPAC Raid Case :মমতা সরকারের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে নাছোড় ED এবার সুপ্রিম কোর্টে

ইডি বনাম মমতা: এবার সুপ্রিম কোর্টে দিল্লি বনাম নবান্ন মহাযুদ্ধ; প্রমাণ লোপাটের দায়ে নজিরবিহীন আইনি সংকটে মুখ্যমন্ত্রী

I-PAC raids: ED moves SC over 'interference' from Mamata govt

Image NDTV

আইপ্যাক দপ্তরে ইডির তল্লাশিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপ এবং নথিপত্র সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা এখন আর শুধু কলকাতা হাইকোর্টের চারদেয়ালে সীমাবদ্ধ নেই। পরিস্থিতির গুরুত্ব এবং ‘সাংবিধানিক সংকট’ বিবেচনা করে এবার সরাসরি দেশের সর্বোচ্চ আদালত অর্থাৎ সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) দ্বারস্থ হলো এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, পশ্চিমবঙ্গের প্রশাসনিক প্রধান যেভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজ থামিয়ে ‘তথ্যপ্রমাণ’ ছিনিয়ে নিয়েছেন, তা ভারতের গণতান্ত্রিক ও বিচারবিভাগীয় ইতিহাসে এক নজিরবিহীন কলঙ্ক।

মানুষের ভাষা, বিশেষ প্রতিবেদন: গত ৮ জানুয়ারি ২০২৬, কলকাতার সল্টলেকে আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তর এবং প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডির অভিযানে যা ঘটেছে, তা এখন দেশের আইনের শাসনের ওপর এক বিরাট প্রশ্নচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। কলকাতা হাইকোর্টে ইতিমধ্যেই মামলা দায়ের হলেও, পরিস্থিতির ভয়াবহতা আঁচ করে ইডি আজ সুপ্রিম কোর্টে এক বিশেষ লিভ পিটিশন (SLP) দাখিল করেছে। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পুলিশ বাহিনী তদন্ত প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণভাবে স্তব্ধ করে দিয়েছেন এবং উদ্ধার হওয়া প্রমাণাদি লুট করেছেন।

সুপ্রিম কোর্টে ইডির মূল অভিযোগসমূহ

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে ইডি অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর কিছু তথ্য এবং ভিডিও ফুটেজের কথা উল্লেখ করেছে। তাদের পিটিশনের মূল নির্যাস হলো:

১. তদন্তে সরাসরি বাধাদান: ইডি জানিয়েছে, পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে একটি বৈধ তল্লাশি চলাকালীন কোনো আগাম নোটিশ ছাড়াই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেখানে প্রবেশ করেন। আইন অনুযায়ী, কোনো তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দেওয়া একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ।

২. তথ্যপ্রমাণ ছিনতাই (Snatching of Evidence): ইডি দাবি করেছে, তাদের হাতে আসা ল্যাপটপ, একাধিক হার্ড ড্রাইভ এবং ফাইল মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে তাঁর পুলিশ কর্মীদের মাধ্যমে সরিয়ে নিয়েছেন। ইডির ভাষায় এটি স্রেফ বাধা নয়, এটি ‘ডাকাতি’র শামিল।

৩. প্রশাসনিক অসহযোগিতা: রাজ্যের পুলিশ কমিশনার এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ইডিকে সাহায্য করার বদলে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘এসকর্ট’ করে প্রমাণ সরিয়ে নিতে সাহায্য করেছেন বলে সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি।

‘সেটিং’ তত্ত্ব বনাম সুপ্রিম লড়াই

শুভেন্দু অধিকারীসহ বিরোধী নেতাদের একাংশ দীর্ঘকাল ধরে অভিযোগ করে আসছেন যে, দিল্লি এবং নবান্নের মধ্যে এক অদৃশ্য ‘সেটিং’ কাজ করছে। কিন্তু ইডির এই সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার পদক্ষেপ সেই তত্ত্বকে কার্যত ধূলিসাৎ করে দিল। আইনি পর্যবেক্ষকদের মতে, ইডি যদি কেবল হাইকোর্টেই সীমাবদ্ধ থাকত, তবে বিষয়টিকে হয়তো লঘু করে দেখার অবকাশ ছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হওয়া প্রমাণ করে যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাটি এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে আইনি কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে বদ্ধপরিকর।

কেন সিবিআই তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে?

ইডির আবেদনে বলা হয়েছে, যেহেতু এই ঘটনায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং স্বয়ং পুলিশ প্রশাসন অভিযুক্ত, তাই রাজ্য পুলিশের কোনো সংস্থার ওপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া মানে প্রহসন করা। ইডি সুপ্রিম কোর্টের কাছে আরজি জানিয়েছে যে, গত বৃহস্পতিবারের পুরো ঘটনার তদন্তভার যেন সিবিআই-এর (CBI) ওপর ন্যস্ত করা হয়। সিবিআই যদি এই মামলার দায়িত্ব নেয়, তবে মুখ্যমন্ত্রী এবং সেই দিন সেখানে উপস্থিত পুলিশ আধিকারিকদের বয়ান রেকর্ড করা হবে, যা তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য এক ভয়াবহ আইনি বিপদ ডেকে আনতে পারে।

মুখ্যমন্ত্রীর পাল্টা প্রতিরক্ষা ও তৃণমূলের অবস্থান

অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দল তৃণমূল কংগ্রেস বিষয়টিকে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে। নবান্ন সূত্রের দাবি, ইডি আসলে কোনো কয়লা পাচার মামলার তদন্ত করছিল না। তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল আইপ্যাক দপ্তরে হানা দিয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের ডিজিটাল স্ট্র্যাটেজি এবং তৃণমূলের গোপন সমীক্ষা রিপোর্ট চুরি করা। তৃণমূল মুখপাত্রদের দাবি, “আমাদের গোপন ফাইল এবং নির্বাচনের গোপন নথি বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী গিয়েছেন, তিনি কোনো অপরাধ করেননি।” তৃণমূলও পাল্টা সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট দাখিল করতে পারে বলে খবর।

সাংবিধানিক সংকট ও আর্টিকেলের লড়াই

সুপ্রিম কোর্টে এই মামলাটি দায়ের হওয়ার ফলে এখন বেশ কিছু সাংবিধানিক প্রশ্ন সামনে আসছে:

  • অনুচ্ছেদ ৩৫৫ ও ৩৫৬: যদি কোনো রাজ্যে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে সেই রাজ্যে কি রাষ্ট্রপতির শাসন বা বিশেষ হস্তক্ষেপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে?

  • ফেডারেল স্ট্রাকচার: রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কি একটি স্বায়ত্তশাসিত কেন্দ্রীয় সংস্থার এলাকা দখল করতে পারেন?

  • পিএমএলএ আইনের ক্ষমতা: পিএমএলএ আইনের ১৭ নম্বর ধারায় তল্লাশি চালানোর সময় বাধা দিলে তার শাস্তি কী হতে পারে?

শুভেন্দু অধিকারীর ‘চরম’ হুঁশিয়ারি

সুপ্রিম কোর্টে ইডির এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি ফেসবুক এবং বিভিন্ন সভায় দাবি করেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভেবেছিলেন রাজীব কুমারের মতো এবারও পার পেয়ে যাবেন। কিন্তু এটা ২০২৬ সাল, সব ফুটেজ ড্রাইভ ড্রাইভে সেভ করা আছে। সুপ্রিম কোর্ট যখন পুরো ফুটেজ দেখবে, তখন বোঝা যাবে কার মদতে ফাইল চুরি হয়েছে।” শুভেন্দুর দাবি, ইডির এই মুভ তৃণমূলের কফিনে শেষ পেরেক হতে চলেছে।

তদন্তের গতিপথ: আইপ্যাকের ফাইল কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

ইডির দাবি অনুযায়ী, কয়লা পাচারের টাকা হাওয়ালা হয়ে আইপ্যাক-এর কাছে পৌঁছেছে এবং সেই টাকার লেনদেন সংক্রান্ত ডিজিটাল প্রমাণ ওই ল্যাপটপগুলোতেই ছিল। যদি ওই প্রমাণগুলো সত্যিই মুখ্যমন্ত্রী সরিয়ে নিয়ে থাকেন এবং সেগুলো যদি বিকৃত করা হয়, তবে প্রমাণ লোপাটের (Evidence Tampering) দায়ে মুখ্যমন্ত্রীর পদও সংকটের মুখে পড়তে পারে।


এক নজরে সুপ্রিম কোর্টে ইডির পিটিশনের মূল পয়েন্ট (Summary Table)

বিষয়ইডির দাবি ও অভিযোগ
আবেদনকারীএনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)।
বিপক্ষমমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকার।
মূল দাবিপুরো ঘটনার সিবিআই তদন্ত এবং সরিয়ে নেওয়া নথি উদ্ধার।
আইনি ভিত্তিপিএমএলএ আইনের অধীনে তদন্তে বাধা ও প্রমাণ লোপাট।
ভিডিও ফুটেজবডি-ওর্ন ক্যামেরা ও সিসিটিভি ফুটেজ সুপ্রিম কোর্টে পেশের আবেদন।

 ২০২৬-এর আগে চূড়ান্ত রণক্ষেত্র

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে আইপ্যাক কাণ্ড এখন একটি আইনি অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হয়েছে। হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট—এখন প্রতিটি পদক্ষেপই হবে তলোয়ারের ওপর দিয়ে হাঁটার মতো। যদি সুপ্রিম কোর্ট ইডির দাবির স্বপক্ষে কোনো কড়া পর্যবেক্ষণ দেয় বা সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়, তবে বাংলার রাজনীতিতে এক বড়সড় ভূমিকম্প হওয়া কেবল সময়ের অপেক্ষা। বাংলার মানুষ এখন অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে দিল্লির তিলক মার্গের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে বাংলার শাসনকর্তার আগামী দিনের ভাগ্য।

সারসংক্ষেপ (Summary):

আইপ্যাক কাণ্ডে নজিরবিহীনভাবে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হলো ইডি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ চুরির অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে এই আইনি লড়াই নবান্ন বনাম দিল্লির সংঘাতকে এক ঐতিহাসিক চরম পর্যায়ে নিয়ে গেল।

ট্যাগ (Tags):

#EDMovesSupremeCourt #MamataBanerjee #IPACRaid #CBIInvestigation #SupremeCourtOfIndia #WestBengalPolitics #LegalTussle #ConstitutionalCrisis #TMCVsED #BengalElection2026

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code