Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

বিজেপি তৃণমূলের কাছেই বার বার হরে - মালদায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের শক্তিপ্রদর্শন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের

"বিজেপিকে হারানোর ক্ষমতা শুধু তৃণমূলেরই আছে," মালদায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেস ও হুমায়ুনকে কড়া বার্তা অভিষেকের




নিজস্ব প্রতিবেদন , মালদা :৮ জানুয়ারি ২০২৬, বৃহস্পতিবার। একদিকে যখন কলকাতায় আইপ্যাক দপ্তরে ইডির হানা নিয়ে তুলকালাম চলছে, ঠিক সেই সময়েই উত্তরবঙ্গের মালদায় দাঁড়িয়ে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের সুর বেঁধে দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর ‘বিদ্বেষ’ থেকে শুরু করে বিজেপি-কংগ্রেসের গোপন আঁতাত এবং হুমায়ুন কবিরের নবগঠিত দল— সব কটি ইস্যুতেই নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক।

সংক্ষেপ (Summary):

  • ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে মালদায় দাঁড়িয়ে তৃণমূলের শক্তিপ্রদর্শন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের。

  • বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে হেনস্থার বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন তিনি。

  • বিজেপির সঙ্গে 'গোপন চুক্তি' করার অভিযোগে নাম না করে কংগ্রেস ও বিরোধীদের নিশানা。

  • বহিষ্কৃত নেতা হুমায়ুন কবিরকে ‘বিজেপির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ অভিষেকের。

  • আসন্ন অধিবেশনে পরিযায়ী শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা সংসদে তোলার আশ্বাস。

পরিযায়ী শ্রমিক ইস্যুতে 'আবেগ' ও 'আক্রমণ'

বৃহস্পতিবার মালদায় এক বিশাল জনসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন যে, ভিন রাজ্যে কাজ করতে যাওয়া বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর ধারাবাহিকভাবে অত্যাচার চালানো হচ্ছে。 বিজেপিকে নিশানা করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বাংলায় কথা বললেই যদি মানুষকে বাংলাদেশি তকমা দিয়ে জেলে পাঠানো হয়, তবে শুভেন্দু অধিকারী বা দিলীপ ঘোষরা কেন জেলে যাবেন না? ওনারাও তো এই ভাষাতেই কথা বলেন!"。 অভিষেকের দাবি, বিজেপি বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর আঘাত হানতে চাইছে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে তৃণমূল এই ইস্যুটি অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করবে বলে তিনি এদিন প্রতিশ্রুতি দেন

বিজেপির সঙ্গে 'গোপন আঁতাত' ও কংগ্রেসকে তোপ

রাজ্যের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলই একমাত্র বিকল্প— এই বার্তা দিয়ে অভিষেক বলেন, "একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেসই বারবার বিজেপিকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছে।"。 এই প্রসঙ্গেই তিনি রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের ইঙ্গিত দিয়ে দাবি করেন যে, রাজ্যের কিছু বিরোধী দল বিজেপির সঙ্গে তলে তলে 'চুক্তি' করেছে。 যদিও তিনি সরাসরি কংগ্রেসের নাম নেননি, তবে মালদার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর এই তির যে হাত শিবিরের দিকেই ছিল, তা স্পষ্ট。 তাঁর দাবি, বিহারের মতো রাজ্যে অনৈক্যের কারণে বিজেপি সুবিধা পেলেও বাংলায় সেই সুযোগ তারা পাবে না。

হুমায়ুন কবিরকে কড়া কটাক্ষ

সম্প্রতি তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া মুর্শিদাবাদের নেতা হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধেও এদিন খড়্গহস্ত হন অভিষেক। ব্রিগেডের ডাক দেওয়া এবং বাবরি মসজিদের আদলে মসজিদ গড়ার পরিকল্পনাকে তিনি স্রেফ 'মানুষকে বোকা বানানোর কৌশল' বলে বর্ণনা করেন。 অভিষেক বলেন, "২০১৯-এ যিনি বিজেপির প্রার্থী ছিলেন, তিনি আজ বিজেপিকেই সাহায্য করছেন। কোনো ধর্মই হিংসা বা বিভেদ শেখায় না।"。 হুমায়ুনের নাম না করে তিনি সতর্ক করে দেন যে, সাম্প্রদায়িক সুর তুলে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা সফল হবে না。

২০২৬-এর লড়াই ও ২০২১-এর স্মৃতি

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২১৫টি আসন জিতে তৃণমূল যে বিপুল জয় পেয়েছিল, সেই রেকর্ড মনে করিয়ে দিয়ে অভিষেক দাবি করেন, ২০২৬-এ বিজেপি আরও শোচনীয়ভাবে পরাজিত হবে。 তিনি কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দেন যে, বিজেপিকে রুখতে গেলে বাংলায় রাজনৈতিক ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখা জরুরি

এক নজরে অভিষেকের মালদা সফরের মূল পয়েন্ট (Table Summary)

বিষয়অভিষেকের বক্তব্য ও পর্যবেক্ষণ
বিজেপি বিরোধী লড়াইএকমাত্র তৃণমূলই বিজেপিকে হারানোর সামর্থ্য রাখে।
পরিযায়ী শ্রমিকবাংলাভাষীদের 'বাংলাদেশি' তকমা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
হুমায়ুন কবিরবাবরি মসজিদ গড়ার নামে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন বিজেপির এজেন্ট।
সংসদীয় রণকৌশলপরবর্তী অধিবেশনে শ্রমিকদের হয়রানির ইস্যু সংসদে তোলা হবে।
ভোটের ভবিষ্যৎ২০২৬-এ বিজেপির পরাজয় নিশ্চিত; বাংলার ঐক্যই বড় শক্তি।

মালদার সভা থেকে অভিষেক আজ স্পষ্ট করে দিলেন যে, ২০২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূলের লড়াই শুধু বিজেপির সঙ্গে নয়, বরং বিজেপির 'সুবিধভোগী' দলগুলোর বিরুদ্ধেও。 বিশেষ করে সংখ্যালঘু ভোট ব্যাংকে ভাগ বসানোর যে চেষ্টা হুমায়ুন কবিররা করছেন, তার মোকাবিলায় তৃণমূল যে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বে না, এদিন অভিষেকের আক্রমণাত্মক ভাষণেই তা প্রমাণিত。

ট্যাগ (Tags):

#AbhishekBanerjee #TMC #WestBengalElection2026 #MaldaRally #HumayunKabir #MigrantWorkers #BJPVsTMC #BengalPolitics


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code