‘রাজীব কাণ্ডের’ পুনরাবৃত্তি ঘটিয়েও কেন অধরা মমতা? শাহ-কে কাঠগড়ায় তুলে বিস্ফোরক বিরোধীরা
সংক্ষেপ (Summary):
আইপ্যাক দপ্তরে ইডির তল্লাশিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাধা প্রদান ও নথি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা।
২০১৯ সালে সিবিআই বনাম রাজীব কুমার কাণ্ডের ছায়া ২০২৬-এর আইপ্যাক অভিযানে।
বাম নেতা সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের কড়া তোপ— "একজন গুন্ডাকে বাংলার গদিতে বসিয়ে রাখা হয়েছে"।
কেন গ্রেফতার করা হলো না মুখ্যমন্ত্রীকে? অমিত শাহের ‘প্রশ্রয়’ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন আইনজীবী সব্যসাচী।
প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের পুরনো মন্তব্য— মমতাকে সরানোর সদিচ্ছা নেই কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের।
আইপ্যাক দপ্তরে মমতার ‘অভিযান’ ও নজিরবিহীন সংঘাত
কয়লা পাচার মামলার তদন্তে বৃহস্পতিবার সকালে যখন ইডি আধিকারিকরা সল্টলেক ও লাউডন স্ট্রিটের ঠিকানায় হানা দেন, পরিস্থিতি প্রথম দিকে শান্তই ছিল। কিন্তু আচমকা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান। ইডির অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী আইপ্যাক প্রধান প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হার্ড ডিস্ক, ইলেকট্রনিক ডিভাইস এবং নথিপত্র জোরপূর্বক নিজের হেফাজতে নিয়ে নেন, যা তদন্তে সরাসরি বাধা দেওয়ার শামিল। ইডি স্পষ্ট জানিয়েছে, কয়লা পাচারের কোটি কোটি টাকা হাওয়ালা লেনদেনের মাধ্যমে আইপ্যাক-এর সাথে যুক্ত সংস্থায় এসেছে বলে তাঁদের কাছে নির্দিষ্ট তথ্য রয়েছে।
অমিত শাহকে নিশানায় বাম নেতৃত্ব
এই ঘটনার পরেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বাম নেতা তথা আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, ২০১৯ সালে সারদা কাণ্ডে অভিযুক্ত রাজীব কুমারকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে সিবিআই আধিকারিকদের হেনস্থা করেছিলেন, আজ ঠিক সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটালেন তিনি। সব্যসাচীর সরাসরি প্রশ্ন, "তদন্তে বাধা দিয়েও কেন মুখ্যমন্ত্রীকে গ্রেফতার করা হবে না?"। এই প্রসঙ্গে তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও কাঠগড়ায় তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, শাহের প্রশ্রয় ও সদিচ্ছার অভাবেই মুখ্যমন্ত্রী এই ধরণের ‘গুন্ডামি’ করার সাহস পাচ্ছেন।
পুরনো ক্ষোভ ও বর্তমান সমীকরণ
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ এই ঘটনায় প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সুরই খুঁজে পাচ্ছেন। বিজেপি নেতা হওয়ার পর অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরানোর কোনো প্রকৃত ইচ্ছা দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে তিনি দেখতে পাননি। আজ আইপ্যাক দপ্তরে মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার হাত থেকে প্রমাণ ‘ছিনিয়ে’ নিয়ে গেলেন এবং তারপরেও কেন্দ্রীয় সরকার কোনো কড়া আইনি পদক্ষেপ (যেমন গ্রেফতারি) করল না, তা সেই ‘সদিচ্ছার অভাব’ তত্ত্বকেই উস্কে দিচ্ছে।
ইডির আইনি লড়াই ও নথির গুরুত্ব
ইতিমধ্যেই ইডি কলকাতা হাইকোর্টে এই ঘটনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। ইডির দাবি, প্রতীক জৈন তৃণমূলের আইটি সেল ও নির্বাচনী রণকৌশল তৈরির প্রধান মাথা। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন যে, ইডি আসলে দলের অভ্যন্তরীণ নথি, প্রার্থী তালিকা এবং আর্থিক গোপন তথ্য হাতানোর চেষ্টা করছিল। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, একজন মুখ্যমন্ত্রী হয়ে যেভাবে তিনি তল্লাশিতে সশরীরে ঢুকে প্রমাণ নিয়ে বেরোলেন, তা ভারতের প্রশাসনিক ইতিহাসে বিরল।
এক নজরে আজকের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া (Reaction Table)
| ব্যক্তিত্ব | মন্তব্য / অবস্থান |
| সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় (বাম নেতা) | স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রশ্রয়েই মমতা তদন্তে বাধা দেওয়ার সাহস পাচ্ছেন। |
| এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) | মুখ্যমন্ত্রী জোর করে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণাদি নিয়ে গিয়ে তদন্তে বাধা দিয়েছেন। |
| মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল) | বিজেপি আমাদের নির্বাচনী কৌশল ও নথি চুরির চেষ্টা করছে। |
| প্রতীক জৈনের পরিবার | ইডি-র বিরুদ্ধে পাল্টা হয়রানির অভিযোগ এনেছে পরিবারের সদস্যরা। |
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজীব কাণ্ডের এই ছায়া নবান্ন বনাম দিল্লির সংঘাতকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেল। ইডি যেখানে কোটি কোটি টাকার হাওয়ালা লেনদেনের অভিযোগ তুলছে, সেখানে তৃণমূল পাল্টা ‘ডেটা চুরির’ অভিযোগ করছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞ সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায়ের তোলা প্রশ্নটি—অর্থাৎ কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গ্রেফতার হলেন না—আগামী দিনে সংসদ থেকে রাজপথ সব জায়গায় প্রতিধ্বনিত হতে পারে।
ট্যাগ (Tags):
#MamataBanerjee #EDRaidKolkata #IPAC #CoalSmugglingCase #SabyasachiChatterjee #AmitShah #RajeevKumarCase #WestBengalPolitics #LegalTussle #EncounterAtSaltLake

0 মন্তব্যসমূহ