Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

আপোসের মেজাজে নেই ED, ছবি ভিডিও দেখে মামলার পার্টি , এবার কি হেস্তনেস্ত হাইকোর্টে ?

তদন্তে বাধা ও প্রমাণ তছরুপ! হাইকোর্টে মমতার বিরুদ্ধে ‘চার্জশিট’ ইডির; ২০২৬-এর আগে বড় বিপাকে তৃণমূল

মানুষের ভাষা, কলকাতা :  গতকাল ৮ জানুয়ারি আইপ্যাক দপ্তর ও প্রতীক জৈনের বাসভবনে ইডির তল্লাশিতে খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের জল এবার গড়াল আদালত পর্যন্ত। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED) আজ শুক্রবার সকালেই কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে এই ঘটনার বিরুদ্ধে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী পিটিশন বা হলফনামা দাখিল করেছে। ইডির এই আইনি পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক ও আইনি মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে।

Image-  Madhyom

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ফেসবুক পোস্টে এই পরিস্থিতিকে ‘সাংবিধানিক সংকট’ বলে বর্ণনা করেছেন এবং মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি জানিয়েছেন। 


সংক্ষেপ (Summary):

  • বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে ইডির হলফনামা— মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে ‘প্রমাণ লোপাট’ ও ‘জোরপূর্বক নথি ছিনিয়ে নেওয়ার’ গুরুতর অভিযোগ।1

  • সিসিটিভি এবং ভিডিও ফুটেজে যাদের দেখা গেছে, তাদের সকলকেই মামলার ‘পক্ষ’ (Party) করেছে ইডি।

  • শুভেন্দু অধিকারীর ফেসবুক পোস্ট— "রাজীব কাণ্ডের মতো এবারও বাঁচানো যাবে না, চোর এখন তথ্যপ্রমাণসহ হাতেনাতে ধরা"।

  • তৃণমূলের জন্য কেন এটি বিপজ্জনক? ইডি যদি প্রমাণ করতে পারে যে ‘কী নথি’ মুখ্যমন্ত্রী নিয়ে গেছেন, তবে তা সরাসরি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের আওতায় আসবে।

হাইকোর্টে ইডির বিস্ফোরক দাবি

আজ কলকাতা হাইকোর্টে ইডির আইনজীবীরা একটি দীর্ঘ হলফনামা পেশ করেছেন। ইডির দাবি অনুযায়ী, গতকালের তল্লাশি ছিল সম্পূর্ণভাবে ‘এভিডেন্স বেসড’ বা তথ্য-প্রমাণ ভিত্তিক। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোনো আইনি পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশিস্থলে প্রবেশ করেন এবং ইডি আধিকারিকদের হেফাজত থেকে গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল হার্ড ড্রাইভ ও ফাইল ছিনিয়ে নেন।2 ইডি আদালতে স্পষ্ট জানিয়েছে যে, উদ্ধার হওয়া প্রমাণগুলোতে কয়লা পাচারের ‘হাওয়ালা লেনদেন’-এর এমন কিছু নথিপত্র ছিল যা সরাসরি আইপ্যাক-এর শীর্ষস্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যুক্ত।

ভিডিও ফুটেজ ও মামলার ‘পক্ষ’: মমতার জন্য কেন এটি বিপজ্জনক?

ইডির আজকের আবেদনের সবথেকে বড় চমক হলো— গতকালের অভিযানের সময় সিসিটিভি (CCTV) এবং ইডির ‘বডি-ওর্ন’ ক্যামেরার ফুটেজে যাদের যাদের উপস্থিতি ধরা পড়েছে, তাদের সকলকেই এই মামলার পক্ষ (Party) করার আবেদন জানানো হয়েছে। এর মধ্যে খোদ মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার সহ একাধিক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক ও সরকারি কর্মী রয়েছেন।3 আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি তৃণমূলের জন্য অত্যন্ত ‘বিপজ্জনক’ সংকেত। কারণ:

  • ফৌজদারি অপরাধ (Criminal Offense): তদন্তাধীন বিষয় থেকে প্রমাণ সরিয়ে নেওয়া পিএমএলএ (PMLA) আইনের অধীনে একটি জামিন অযোগ্য অপরাধ।4 ভিডিও ফুটেজ প্রমাণ হিসেবে গৃহীত হলে তা সরাসরি অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের আওতায় আসবে।

  • সরাসরি শনাক্তকরণ: ক্যামেরায় রেকর্ড হওয়া ফুটেজ আদালতে পেশ করলে মুখ্যমন্ত্রী বা পুলিশ আধিকারিকদের পক্ষে তাঁদের উপস্থিতির কথা অস্বীকার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

  • প্রশাসনিক অসহযোগিতা: রাজ্য পুলিশ যেভাবে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাজে বাধা দিয়েছে, তা নিয়ে ইডি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রককেও রিপোর্ট পাঠিয়েছে।

শুভেন্দু অধিকারীর ফেসবুক বার্তার সারমর্ম

আজ সকালে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ফেসবুকে লিখেছেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুষ্ঠ দেখিয়ে নিজেকে আইনের ঊর্ধ্বে ভাবছেন। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ২০১৯ সালেও রাজীব কুমারকে বাঁচাতে মুখ্যমন্ত্রী একই রকম আচরণ করেছিলেন, কিন্তু এবার ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে সিসিটিভি ফুটেজ ও ইডির বডিওর্ন ক্যামেরার ফুটেজেই মুখ্যমন্ত্রী ‘প্রমাণ লোপাটের’ দায়ে ফেঁসে যাবেন। শুভেন্দুর দাবি, ইডি যেন অবিলম্বে ওই নথিগুলো উদ্ধারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন বা নবান্নে হানা দেওয়ার অনুমতি চায়।

ইডির দায়ের করা পিটিশনের মূল বিষয়বস্তু (Table)

আইনি পয়েন্টইডির অভিযোগ ও দাবি
ধারা ১৮৬ ও ৩৫৩ (IPC)সরকারি আধিকারিকদের কাজে বাধা এবং আক্রমণ।
পিএমএলএ সেকশন ৫৪কেন্দ্রীয় সংস্থাকে সাহায্য করার বদলে রাজ্য পুলিশের দ্বারা বাধার সৃষ্টি।
ডিজিটাল ফরেনসিকআইপ্যাকের সার্ভার থেকে যে ডাটা মুখ্যমন্ত্রী ডিলিট বা সিজ করেছেন, তা পুনরুদ্ধারের দাবি।
সিসিটিভি ফুটেজতল্লাশিস্থলে যাদের দেখা গেছে, তাদের সকলকেই আইনি পক্ষ করার আবেদন।

আজকের এই আইনি পদক্ষেপ প্রমাণ করে দিল যে, ইডি এবার কোনো আপস করার মেজাজে নেই। আদালত যদি আজ বিকেলের মধ্যে কোনো কড়া নির্দেশ দেয়, তবে নবান্নের জন্য তা হবে বড় ধাক্কা। আইপ্যাক-এর সঙ্গে হাওয়ালা লেনদেনের যোগসূত্র এবং মুখ্যমন্ত্রীর সেই নথিপত্র সরিয়ে নেওয়া—এই দুই ঘটনা ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগেই তৃণমূলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তিকে বড় সংকটের মুখে ফেলেছে।

ট্যাগ (Tags):

#EDHighCourtMove #MamataBanerjee #IPACRaid #SuvenduAdhikari #CoalSmuggling #LegalTussle #WestBengalPolitics #BreakingNewsBengal #TMCVsED


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code