Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

মমতাকে কেন বাধা দিল না ইডি? আসল কারণ ফাঁস করলেন শুভেন্দু; হাইকোর্টে বড় নির্দেশের অপেক্ষা

মমতাকে কেন বাধা দিল না ইডি? আসল কারণ ফাঁস করলেন শুভেন্দু; হাইকোর্টে বড় নির্দেশের অপেক্ষা




শহর কলকাতার সল্টলেকের আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তর এবং সংস্থাটির কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির (ED) তল্লাশিকে কেন্দ্র করে যে নজিরবিহীন সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, তা নিয়ে এবার মুখ খুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গত বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনার সময় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে উপস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ নথি ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়াকে ‘গুন্ডামি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি। কেন সেই মুহূর্তে ইডি আধিকারিকরা মুখ্যমন্ত্রীকে বাধা দিলেন না, সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তার নেপথ্য কারণও ব্যাখ্যা করেছেন শুভেন্দু।

সংক্ষেপ (Summary):

  • আইপ্যাক দপ্তরে তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপকে ‘গুন্ডামি’ বলে কটাক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর।

  • আক্রান্ত হওয়ার ভয়েই কি ইডি জওয়ানেরা মুখ্যমন্ত্রীকে বাধা দেননি? তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা।

  • কলকাতা পুলিশ ‘দলদাস’ হয়ে কাজ করেছে এবং ইউনিফর্ম ছাড়াই আধিকারিকদের হেনস্থা করেছে বলে দাবি শুভেন্দুর।

  • অভিযুক্তদের গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে ইডির পিটিশনের প্রসঙ্গ তুলে নবান্নকে চরম হুঁশিয়ারি বিরোধী দলনেতার।

ইডির সংযম বনাম মমতার ‘চড়াও’ হওয়া

বৃহস্পতিবার সল্টলেক ও লাউডন স্ট্রিটে ইডির তল্লাশি চলার সময় মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে পুলিশ নিয়ে ঢুকে পড়ে নথিপত্র সরিয়ে ফেলেছেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে— কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতেও কেন মুখ্যমন্ত্রীকে আটকানো হলো না?। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে ‘গুন্ডামি’ শুরু করেছিলেন, তাতে ইডি আধিকারিকরা বাধা দিতে গেলে বড়সড় শারীরিক সংঘর্ষ বা আক্রমণের সম্ভাবনা ছিল। আধিকারিকরা আক্রান্ত হতে পারেন এই আশঙ্কা থেকেই ইডি তখন সংযম বজায় রেখেছিল বলে তাঁর মত। শুভেন্দুর ভাষায়, “সব কিছু মানুষের চোখের সামনে হয়েছে, তদন্ত ভণ্ডুল করার চেষ্টা চালিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী”।

পুলিশের ভূমিকা ও ‘দলদাস’ তকমা

বিরোধী দলনেতার নিশানায় ছিল কলকাতা পুলিশও। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ আধিকারিকরা ইডি-কে সাহায্য করার বদলে দলদাসের মতো কাজ করেছেন। অনেক পুলিশ কর্মী ইউনিফর্মে ছিলেন না এবং তাঁরা কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের সাথে অত্যন্ত অসদ্ব্যবহার করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি। শুভেন্দুর মতে, নথিগুলোর যাতে কোনো জালিয়াতি বা বিকৃতি না হয়, তার জন্যই ইডির পক্ষ থেকে দ্রুত আদালতের দ্বারস্থ হওয়া অত্যন্ত জরুরি ছিল।

হাইকোর্টে ইডির পিটিশন ও গ্রেফতারির আর্জি

শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন যে, ইডি ইতিমধ্য়েই কলকাতা হাইকোর্টে যে পিটিশন দায়ের করেছে, তাতে তদন্তে বাধা দেওয়ার দায়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করার বিষয়টিও উল্লেখ রয়েছে। সিসিটিভি এবং ভিডিও ফুটেজে যাদের যাদের চেহারা দেখা গিয়েছে, তাঁদের কাউকেই ছাড়া হবে না বলে তাঁর বিশ্বাস। শুভেন্দুর দাবি, “তথ্য প্রমাণের কিছু নেই, সবকিছু জনগণের সামনে হয়েছে এবং ভিডিও ফুটেজেই স্পষ্ট কে কী নথি নিয়ে বেরিয়েছেন”।

এক নজরে শুভেন্দুর তোলা অভিযোগগুলি (Table Summary)

অভিযোগের বিষয়শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য
মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকাতল্লাশিস্থলে প্রবেশ করে ‘গুন্ডামি’ করেছেন এবং জোর করে নথি ছিনিয়ে নিয়েছেন।
ইডির অবস্থানআধিকারিকদের ওপর হামলা হতে পারত বলেই মুখ্যমন্ত্রীকে সেই সময় বাধা দেওয়া হয়নি।
কলকাতা পুলিশপুলিশের একাংশ ইউনিফর্ম ছাড়া কেন্দ্রীয় সংস্থাকে হেনস্থা ও তদন্তে ব্যাঘাত ঘটিয়েছে।
আইনি পদক্ষেপভিডিও ফুটেজের ভিত্তিতে চিহ্নিত সকলকে মামলার পক্ষ করে গ্রেফতারির দাবি তোলা হয়েছে।


২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে আইপ্যাক অভিযানকে কেন্দ্র করে যে ‘যুদ্ধ’ শুরু হলো, তা এখন স্রেফ রাজপথে নয়, বরং হাইকোর্টের আইনি লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। শুভেন্দু অধিকারীর দেওয়া এই ব্যাখ্যা এবং ইডির আইনি পদক্ষেপ তৃণমূল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য অস্বস্তি বাড়িয়ে তুলেছে। এখন নজর বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে, যেখানে এই ‘প্রমাণ লোপাটের’ অভিযোগের ভাগ্য নির্ধারিত হবে।

ট্যাগ (Tags):

#SuvenduAdhikari #MamataBanerjee #EDRaidKolkata #IPAC #HighCourtBengal #WestBengalPolitics #BreakingNewsKolkata #PoliticalCrisis #Bengal2026



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code