Hot Posts

6/recent/ticker-posts

Ad Code

Recent in Home

এটি পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক কাঠামোর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ার প্রমাণ : IPAK ED কাণ্ডে মমতাকে আক্রমণ শমিকের

"সাংবিধানিক কাঠামো ধূলিসাৎ!" আইপ্যাক কাণ্ডে মমতাকে বেনজির আক্রমণ শমিকের; সুপ্রিম কোর্টে ইডি-নবান্ন দ্বৈরথ তুঙ্গে


Image- 
Indian Express Bengali

আইপ্যাক দপ্তরে ইডির তল্লাশি এবং তাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের ঘটনা এখন আর শুধু আইনি লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই; এটি এখন একটি জাতীয় স্তরের ‘সাংবিধানিক সংকটে’ রূপ নিয়েছে। গত সোমবার রাতে এই বিষয়ে মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমিক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, এই ঘটনা কেবল একটি সাধারণ সংঘাত নয়, বরং এটি পশ্চিমবঙ্গে ‘সাংবিধানিক কাঠামোর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া’র (Breakdown of constitutional machinery) প্রমাণ।


মানুষের ভাষা, কলকাতা: কলকাতার আইপ্যাক (I-PAC) দপ্তরে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) তল্লাশিকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে রাজ্য রাজনীতি। সোমবার রাতে এই প্রসঙ্গে শাসকদলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য। তাঁর অভিযোগ, একজন মুখ্যমন্ত্রী যেভাবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাত থেকে জোরপূর্বক ফাইল এবং নথিপত্র কেড়ে নিয়েছেন, তা ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে নজিরবিহীন।শমিকের ভাষায়, “এটি স্রেফ সাংবিধানিক সংকট নয়, এটি প্রশাসনিক ব্যবস্থার চরম বিপর্যয়।”

সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শমিক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন যে, আইপ্যাক দপ্তরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নিজে দাঁড়িয়ে থেকে ফাইল ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছেন। তাঁর দাবি, “দেশের অর্থনীতিকে বিপন্ন করা হচ্ছে। একটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের আক্রমণ করছেন, আর তাঁর সাথে থাকছেন মুখ্যসচিব ও পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল। এটা প্রশাসনিক অরাজকতা ছাড়া আর কিছুই নয়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, আইপ্যাক যদি কোনো তৃতীয় পক্ষের সংস্থা হয়, তবে তার জন্য খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে কেন ছুটে যেতে হলো? এই ‘সবুজ ফাইল’ (Green File) নিয়ে শাসকদলের এত ভয় কেন?

আইপ্যাক কাণ্ড এখন আক্ষরিক অর্থেই আদালতের আঙিনায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ইডি সরাসরি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। কেন্দ্রীয় সংস্থার অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী তদন্তে বাধা দিয়েছেন এবং সংগৃহীত প্রমাণাদি লোপাট করেছেন। ইডি এখন এই পুরো ঘটনার সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

অন্যদিকে, নবান্নও হাত গুটিয়ে বসে নেই। ইডির পদক্ষেপ আঁচ করতে পেরে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টে ক্যাভিয়েট (Caveat) দাখিল করেছে, যাতে রাজ্যকে না শুনে কোনো নির্দেশ না দেওয়া হয়।1 পাশাপাশি, কলকাতা হাইকোর্টেও পাল্টা মামলা করেছে তৃণমূল সরকার। তাদের দাবি, ইডি আইপ্যাক অফিস থেকে সমস্ত ডিজিটাল রেকর্ড এবং সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে, যা আদতে তৃণমূল কংগ্রেসের নিজস্ব নির্বাচনি তথ্য ও দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এই গোপন তথ্য ফেরত দেওয়ার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়েছে রাজ্য।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই রেইডের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর দাবি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের রণকৌশল এবং গোপন সমীক্ষা রিপোর্ট চুরি করতেই এই ষড়যন্ত্র করা হয়েছে। গত রবিবার তিনি কলকাতায় এক প্রতিবাদ মিছিলে নেতৃত্ব দেন এবং দাবি করেন যে, কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলো সাধারণ মানুষকে হয়রান করছে এবং কোনো রসিদ ছাড়াই নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করছে। দিল্লিতেও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে তৃণমূল সাংসদরা এই ইস্যুতে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন।

বিজেপির অভিযোগ, এই রেইডের মাধ্যমে কয়লা কেলেঙ্কারির টাকার উৎস এবং আইপ্যাক-এর কাছে পৌঁছানো বিপুল পরিমাণ অর্থের যোগসূত্র পাওয়া যেত। শমিক ভট্টাচার্যের দাবি অনুযায়ী, উদ্ধার হওয়া সেই ফাইলে এমন কিছু ছিল যা প্রকাশিত হলে সরকারের অস্বস্তি কয়েক গুণ বেড়ে যেত। তাই সাধারণ মানুষের নজর ঘোরাতেই শুভেন্দু অধিকারীর কনভয়ে হামলা বা এসআইআর (SIR) ইস্যুতে জনভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।

আইপ্যাক দপ্তর এখন আর স্রেফ একটি রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার অফিস নয়, তা হয়ে দাঁড়িয়েছে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাতের এপিসেন্টার। একদিকে শমিক ভট্টাচার্যের ‘সাংবিধানিক সংকট’ তত্ত্ব এবং অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘তথ্য চুরির’ অভিযোগ—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়ে ২০২৬-এর আগে বাংলার রাজনীতি এখন এক আগ্নেয়গিরির ওপর দাঁড়িয়ে। এখন দেখার, সুপ্রিম কোর্ট এই জটিল পরিস্থিতিতে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয় না কি রাজ্য সরকারের যুক্তিতে সায় দেয়।


সারসংক্ষেপ (Summary):

বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমিক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেছেন যে, আইপ্যাক দপ্তরে রেইড চলাকালীন নথিপত্র ছিনিয়ে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবিধানিক কাঠামো ভেঙে ফেলেছেন। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ইডি সুপ্রিম কোর্টে সিবিআই তদন্ত চেয়েছে, অন্যদিকে নবান্ন ইডির বিরুদ্ধে তথ্য চুরির পাল্টা মামলা করেছে হাইকোর্টে।

ট্যাগ (Tags):

#IPACRaid #MamataBanerjee #SamikBhattacharya #ConstitutionalCrisis #EDvsTMC #SupremeCourt #BengalPolitics #WestBengalElection2026 #CoalScamInvestigation #PratikJain #LegalWarBengal

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ

Comments

Ad Code