পুলিশ-প্রশাসনের পর এবার খোদ সিইও দপ্তরেও কমিশনের কোপ! সরানো হল ডেপুটি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক সুব্রত পালকে
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনের মুখে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) কড়া পদক্ষেপ অব্যাহত। রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ স্তরে নজিরবিহীন রদবদলের পর, এবার খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরেও বড়সড় রদবদল ঘটাল কমিশন। দীর্ঘদিনের ডেপুটি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Deputy CEO) সুব্রত পালকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। তাঁর জায়গায় নতুন ডেপুটি সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন রাহুল নাথ।
কলকাতা: নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যে কার্যত 'অ্যাকশন মোডে' রয়েছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI)। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট সুনিশ্চিত করতে রাজ্য পুলিশের ডিজি, কলকাতার পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে জেলাশাসক এবং পুলিশ সুপারদের ব্যাপক রদবদল করেছে কমিশন। আর পুলিশ-প্রশাসনে সেই মেগা রদবদলের রেশ কাটতে না কাটতেই, এবার খোদ মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তরেও বড়সড় রদবদল করা হল।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের ডেপুটি মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Deputy CEO) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে সুব্রত পালকে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন আরেক দুঁদে আধিকারিক রাহুল নাথ।
কে এই সুব্রত পাল? কেন সরানো হল তাঁকে?
জানা গিয়েছে, ২০১৮ সাল থেকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন সুব্রত পাল। গত কয়েকটি বড় নির্বাচনে সিইও দপ্তরের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার যখন কলকাতায় এসেছিলেন, তখন তাঁর সফরের যাবতীয় দায়িত্বও পালন করেছিলেন এই সুব্রত পালই। পুরনো সিইও অফিস থেকে নতুন অফিসে স্থানান্তরের পর সেখানেই তিনি তাঁর দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন।
কিন্তু নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, হঠাৎ করেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, আপাতত তাঁকে রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরে (Health Department) বদলি করা হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাঁকে এই ভোটের মুখে সরানো হলো, তা নিয়ে কমিশনের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ দর্শানো হয়নি।
পুরনো মুখ রাহুল নাথের প্রত্যাবর্তন
সুব্রত পালের জায়গায় নতুন ডেপুটি সিইও হিসেবে যাকে নিয়ে আসা হয়েছে, সেই রাহুল নাথও নির্বাচন কমিশনের অত্যন্ত পরিচিত মুখ। সূত্রের খবর, এর আগে যখন রাজ্যে নির্বাচন হয়েছিল, তখনও তিনি সিইও দপ্তরে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সেই সময় কোনো এক অজ্ঞাত কারণে তাঁকে সিইও দপ্তর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তবে এবার আসন্ন নির্বাচনের আগে সেই পুরনো আধিকারিকের ওপরেই ফের ভরসা রাখল জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাঁকে পুনরায় ডেপুটি সিইও হিসেবে ফিরিয়ে আনা হলো।
কমিশনের কড়া বার্তায় জল্পনা রাজনৈতিক মহলে
রাজ্য পুলিশের শীর্ষ স্তর থেকে শুরু করে তৃণমূল স্তরে একাধিক রদবদলের পর রাজ্য রাজনীতির পারদ এমনিতেই চড়েছিল। বিরোধীরা কমিশনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, শাসক দলের তরফ থেকে বারবার কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ নির্বাচন পরিচালনার আঁতুড়ঘর, অর্থাৎ সিইও দপ্তরেও এই রদবদল তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন কমিশন বুঝিয়ে দিতে চাইছে যে ভোটের কাজে স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে তারা কাউকেই রেয়াত করবে না। প্রশাসন থেকে শুরু করে পুলিশ, এমনকি খোদ নির্বাচন দপ্তরের অন্দরেও যদি কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়, কমিশন তা করতে পিছপা হবে না। মঙ্গলবারের এই নতুন নির্দেশিকা সেই কড়া বার্তারই আরও একটি জ্বলন্ত প্রমাণ।
Tags (ট্যাগস): #ElectionCommission #WestBengalElections #CEOWestBengal #DeputyCEORahulNath #SubrataPalTransferred #WBPollPreparedness #Nabanna #KolkataNews #BengaliNews #ManusherBhasha #ElectionReshuffle

0 মন্তব্যসমূহ