ভারতের মাটিতে ভিনদেশিদের প্রশিক্ষণ ছক? কলকাতা থেকে ধৃত মার্কিন নাগরিক, জালে ৬ ইউক্রেনীয়ও
মানুষের ভাষা নিউজ ডেস্ক: দেশের জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এক বড়সড় আশঙ্কার মেঘ ঘনাচ্ছে। ট্যুরিস্ট ভিসায় ভারতে ঢুকে প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমারে (Myanmar) সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে 'ড্রোন যুদ্ধের' (Drone Warfare) প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে এক মার্কিন নাগরিক এবং তাঁর কয়েকজন বিদেশি সহযোগীকে গ্রেফতার করল ভারতের জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা বা এনআইএ (NIA)। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে, বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা মহলে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই চক্রের মূল পান্ডা হিসেবে চিহ্নিত মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক (Matthew Van Dyke)-কে খাস কলকাতা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পাশাপাশি লখনউ এবং নয়াদিল্লি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে আরও ৬ জন ইউক্রেনীয় নাগরিককে। এই চাঞ্চল্যকর গ্রেফতারির পর ভারতের মাটিতে আন্তর্জাতিক চরবৃত্তি এবং বেআইনি কার্যকলাপের এক বিরাট ছকের পর্দাফাঁস হতে চলেছে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।
Deadly Deep State/CIA Network Exposed!
— Treeni (@treeni) March 17, 2026
> NIA arrested 7 foreigners (6 Ukrainians, 1 American) from Delhi, Lucknow, Kolkata
> They came on visas, entered Mizoram, crossed into Myanmar, contacted insurgent groups
> Linked to weapons, drone training, smuggling via India
> One… pic.twitter.com/CEGisWI5uN
কে এই ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক?
গোয়েন্দা সূত্রে খবর, এই পুরো চক্রের মাস্টারমাইন্ড ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক আন্তর্জাতিক মহলে অত্যন্ত পরিচিত এবং বিতর্কিত একটি নাম। নিজেকে তিনি একজন 'নিরাপত্তা বিশ্লেষক' (Security Analyst), 'যুদ্ধক্ষেত্রের সাংবাদিক' (War Correspondent) এবং চিত্রনির্মাতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
In May 2024, former Bangladesh PM Sheikh Hasina warned of a plot by a "white man" to carve a new "Christian country" out of Bangladesh and Myanmar, demanding a base in the Bay of Bengal. She refused, and the rest is history.
— Netram Defence Review (@NetramDefence) March 17, 2026
Fast forward to today: India's NIA has arrested… https://t.co/ULsXwrGG7r pic.twitter.com/R86cVIFDDt
আন্তর্জাতিক স্তরে ম্যাথিউ প্রথম খবরের শিরোনামে আসেন লিবিয়ার গৃহযুদ্ধের (Libyan Civil War) সময়। সেই সময় তিনি লিবিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়ে যুদ্ধে সরাসরি অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং পরবর্তীকালে সেখানে কারাবন্দিও হন। এরপর তিনি 'সন্স অফ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল' (Sons of Liberty International) নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এই সংগঠনের মূল কাজই হলো বিশ্বের বিভিন্ন যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সামরিক প্রশিক্ষণ এবং কৌশলগত সহায়তা প্রদান করা। এইহেন একজন বিতর্কিত ব্যক্তির কলকাতায় উপস্থিতি এবং গ্রেফতারি ভারতীয় গোয়েন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
কী ছিল এই বিদেশি চক্রের আসল ছক?
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই বিদেশি নাগরিকদের ভারতে আসার প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল প্রতিবেশী রাষ্ট্র মায়ানমারের জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে (Ethnic Armed Groups) উন্নত প্রযুক্তির ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেওয়া। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, এই দলটির কাজের ধরন ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত।
Matthew VanDyke says that he and his organization, Sons of Liberty International, have no official ties to the U.S. government, yet they consistently appear in regions where the U.S. military is either deployed or preparing for intervention.
— Netram Defence Review (@NetramDefence) March 17, 2026
He has in past worked in Ukraine,… https://t.co/vmT5yiBiNP pic.twitter.com/ATiWuS3SzA
প্রাথমিকভাবে তাঁরা 'ট্যুরিস্ট ভিসা' বা পর্যটক ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তাঁরা অসমের গুয়াহাটি হয়ে পৌঁছন উত্তর-পূর্বের রাজ্য মিজোরামে। মিজোরামের অত্যন্ত দুর্গম এবং অরক্ষিত সীমান্ত পেরিয়ে তাঁরা বেআইনিভাবে মায়ানমারে প্রবেশ করেন। কর্মকর্তাদের মতে, শুধুমাত্র প্রশিক্ষণ দেওয়াই নয়, এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ব্যবহারের জন্য ভারতের রুট ব্যবহার করে মায়ানমারে বিপুল সংখ্যক ড্রোনের চালান (Consignments of Drones) পাঠানো হয়েছে বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রে চরম অশনিসংকেত
মায়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ভিনদেশিদের এই নাক গলানোর বিষয়টি ভারতের জন্য এক বিরাট চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির (Indian Agencies) জোরালো সন্দেহ, মায়ানমারের এই সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে নিষিদ্ধ ঘোষিত বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং জঙ্গি সংগঠনগুলির গভীর যোগাযোগ রয়েছে।
আশঙ্কা করা হচ্ছে, মায়ানমারের এই গোষ্ঠীগুলি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিদ্রোহী নেটওয়ার্কগুলিকে অস্ত্র সরবরাহ এবং সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে সাহায্য করছে। আর সেই গোষ্ঠীগুলিকেই যদি বিদেশি বিশেষজ্ঞরা অত্যাধুনিক ড্রোন যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয়, তবে তা ভারতের নিজস্ব জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। আধুনিক যুদ্ধে ড্রোন এখন এক নির্ণায়ক শক্তি, আর সেই প্রযুক্তি যদি উত্তর-পূর্ব ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে পৌঁছয়, তবে পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হতে পারে।
আদালতে পেশ ও তদন্তের পরবর্তী পদক্ষেপ
কলকাতায় ম্যাথিউ ভ্যান ডাইক এবং দিল্লি ও লখনউ থেকে ৬ ইউক্রেনীয়কে গ্রেফতার করার পর, মোট ৭ জন অভিযুক্তকেই পাতিয়ালা হাউস কোর্টে (Patiala House Court) পেশ করা হয়। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (NIA) তাদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও গভীরভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানায় এবং আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করে।
বর্তমানে তদন্তকারীরা এই অপারেশনের সম্পূর্ণ ব্যাপ্তি উন্মোচনের চেষ্টা করছেন। ভারতে এই চক্রের আর কোনো শাখা প্রশাখা রয়েছে কি না, তাঁদের যাতায়াতের রুট কী ছিল এবং তাঁদের সঙ্গে ভারতের অভ্যন্তরে কাদের যোগাযোগ ছিল— এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন গোয়েন্দারা। অভিযুক্তদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ এবং অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসগুলির (Digital Devices) ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। পাশাপাশি, তাঁরা দেশের কোন কোন শহরে গিয়েছিলেন এবং সীমান্ত এলাকার কোথায় কোথায় ঘুরেছেন, তা পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা। আগামী দিনে এই তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালানো হতে পারে বলে খবর।
পূর্ব সতর্কবার্তা এবং মিজোরাম মুখ্যমন্ত্রীর আশঙ্কা
ঘটনাটি এমন এক সময়ে সামনে এল, যার কিছুদিন আগেই মিজোরামের মুখ্যমন্ত্রী লালডুহোমা (Lalduhoma) এই বিষয়ে একটি গভীর আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি আগেই সতর্ক করে জানিয়েছিলেন যে, ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত ব্যবহার করে বিদেশি যোদ্ধা এবং প্রশিক্ষকরা মায়ানমারে প্রবেশ করছে।
তিনি নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করেছিলেন, পশ্চিমি দেশগুলির প্রাক্তন সামরিক কর্মী সহ বেশ কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তি উত্তর-পূর্ব ভারতের রুট ব্যবহার করে মায়ানমারের প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলিকে প্রশিক্ষণ দিতে যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সেই সতর্কবার্তাই আজ অক্ষরে অক্ষরে মিলে গেল এই গ্রেফতারির মাধ্যমে।
এই তদন্ত যত এগোবে, আন্তর্জাতিক অপারেটিভদের সঙ্গে ভারতের স্থানীয় মদতদাতাদের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা স্পষ্ট হবে। যা একটি সাধারণ গ্রেফতারি হিসেবে শুরু হয়েছিল, তা এখন ড্রোন, সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং গোপন সামরিক প্রশিক্ষণ জড়িত একটি বিশাল আন্তঃসীমান্ত অপারেশনের রূপ নিতে চলেছে। এখন দেখার, এনআইএ-র জেরায় আর কী কী চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে।
Tags (ট্যাগস):
#MatthewVanDyke #NIAInvestigation #DroneWarfare #NationalSecurity #MyanmarCrisis #IndiaMyanmarBorder #ForeignOperativesArrested #KolkataNews #Mizoram #SonsOfLibertyInternational #ManusherBhashaNews #BengaliNews #InternationalTerrorism #Geopolitics


0 মন্তব্যসমূহ